বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

নির্বাচন নিয়ে রাশিয়ার অভিযোগ, বিএনপির অস্বীকার

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ২২:১৩

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে বলে দাবি রাশিয়ার। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত সরকারবিরোধী সমাবেশ আয়োজনের বিষয়ে বিরোধী এক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ বিষয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন এ ধরনের বৈঠকের সত্যতা অস্বীকার করেছেন।

বুধবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক ব্রিফিংয়ে বলেন, বিদেশি কারও সহায়তা ছাড়াই বাংলাদেশের ‘বৈধ নির্বাচনের' সক্ষমতা আছে বলে মনে করে রাশিয়া। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ভিয়েনা কনভেনশনের বিরোধী।

রাশিয়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক করার ছদ্মাবরণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রচেষ্টার বিষয় আমরা অব্যাহতভাবে তুলে ধরে আসছি। আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে, বিদেশি শুভাকাঙ্খীদের সহায়তা ছাড়াই সংবিধানের বিধানমতো ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন স্বাধীনভাবে আয়োজনের সক্ষমতা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আছে।

মারিয়া জাখারোভার দাবি, অক্টোবরের শেষে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিরোধীদলীয় এক সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তিনি পিটার হাসের এই তৎপরতাকে ভিয়েনা কনভেনশন না মেনে সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চরম হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার এই বক্তব্য মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ তুলে ধরা হয়। বুধবার ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও তার বক্তব্য পোস্ট করা হয়।

পিটার হাসের ওই কথিত বৈঠকের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, পিটার হাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য দলের নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যেই একাধিক বৈঠক হয়েছে। ডোনাল্ড লু সংলাপের জন্য বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে চিঠি দিয়েছেন। এগুলো সবার জানা। রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র যে বৈঠকের কথা বলছেন এ ধরনের কোনো বৈঠক আমাদের কোনো নেতার সঙ্গে পিটার হাসের হয়নি। এ ধরনের কোনো বৈঠকের অস্তিত্ব নেই, প্রশ্নই ওঠে না।

তার কথা, সমাবেশ নিয়ে পিটার হাসের সঙ্গে আমাদের বৈঠক করতে হবে কেন? তিনি কি বিএনপির জনসভায় লোক এনে দেবেন? বিএনপি জনগণকে নিয়ে কাজ করে। জনগণের শক্তিতে কাজ করে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, ওটা ওনাকেই জিজ্ঞেস করেন। ওগুলো যারা বলেছে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করেন। আমাদের জিজ্ঞেস করে কোনো লাভ নেই।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ঢাকায় মার্কিন দূতবাসের মূখপাত্র স্টিফেন ইবেলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। এক ক্ষুদে বার্তায় তিনি বলেন, কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে পরে জানানো হবে।

তবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) এম শহীদুল হক বলেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের কথা কতটুকু অথেনটিক তা তিনি এবং পিটার হাস বলতে পারবেন। পিটার হাস অনেক রাজনৈকি নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন, কথা বলেছেন। কিন্তু যে বৈঠকের কথা বলা হচ্ছে, সেটা হয়েছে কিনা? হয়তো হয়েছে বা হয়নি। হয়ে থাকলে বৈঠকের বিষয় কী ছিল? এসব পিটার হাসই বলতে পারবেন। তিনি কথা না বলা পর্যন্ত কোনো কিছুই স্পষ্ট হবে না।

তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে, নির্বাচন নিয়ে অনেক দেশই কথা বলছে। সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলছে। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা একদিকে, আর চীন, ভারত ও রাশিয়া আরেকদিকে। আমাদের স্বার্থ আমাদের বুঝতে হবে। আমাদের কোল্ড ওয়ারের যুগের চিন্তা দিয়ে চললে হবে না। এখন আর কোনো আদর্শিক বিষয়ও নেই। সবাই তাদের বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণের হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন হারুন উর রশীদ স্বপন। এই প্রতিবেদনের সব ধরনের দায়ভার ডয়চে ভেলের।

ইত্তেফাক/এএএম