রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

১০ বছরে ২৩ বিয়ে নিবন্ধন

নিকলীতে প্রচারের অভাবে হিন্দু বিয়ে নিবন্ধন হচ্ছে না

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৪০

প্রচার-প্রচারণার অভাবে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে গত ১০ বছরে মাত্র ২৩টি হিন্দু বিয়ে নিবন্ধন হয়েছে। ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইনটির অনুমোদন দেন। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ঐ বছরের ২৫ আগস্ট এই উপজেলায় হিন্দু বিয়ের নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সুকান্ত আচার্য্যকে।

তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কাছে ২৩টি বিয়ে নিবন্ধন করেছে উপজেলার কোনো হিন্দুধর্মাবলম্বী বর-কনে পক্ষ। ১০ বছর ধরে কার্যালয় ভাড়া ও প্রতিবছর ৩১ মার্চ ১ হাজার ১৫০ টাকা সরকারি ফির টাকা জমা দিচ্ছেন তিনি। তার অভিযোগ, সরকারি-বেসরকারি প্রচারের অভাবে এমনটি হচ্ছে। তার হিসাব অনুযায়ী, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ১৫ হাজার হিন্দুধর্মাবলম্বী বসবাস করেন। প্রতিবছর তিন থেকে চার শতাধিক হিন্দু বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু তার কাছে বিয়ে নিবন্ধনের জন্য কোনো পক্ষই আসে না। সর্বশেষ গত ২২ জুন বিয়ে হয় উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাখি গোপাল দেবনাথের। এলাকাবাসী বলেন, হিন্দু বিয়ে দিলে নিবন্ধন করতে হবে এমন কথা আমি কোনো দিন শুনিনি। আর এ ব্যাপারে আমাদের এলাকায় মাইকযোগে কেউ প্রচারও করেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা পারভিন বলেন, হিন্দু বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়ে সভা-সেমিনার বা মাইকে প্রচারণা চালানোর দরকার ছিল। কিন্তু এসব করা হয়নি। তবে কিছুদিনের মধ্যে হিন্দু নেতাদের নিয়ে আলোচনা করে বিয়ে নিবন্ধনের প্রচারের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, মূলত প্রচারণার অভাবেই এমনটি হচ্ছে। মুসলিম আইনে নিবন্ধন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও হিন্দু আইনে এ রকম নেই। তাই নিবন্ধন না করেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বিপুল দেবনাথ, সহ-সভাপতি দিলীপ কুমার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক কার্তিক সূত্রধর বলেন, দাম্পত্য জীবনের নানা সমস্যায় আইনি সহায়তাসহ বিভিন্ন কারণে বিয়ের নিবন্ধন প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি