লাইভে এসে মদকে ঔষধ এবং মদের ব্যবসাকে হালাল মন্তব্য করে ভাইরাল হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান ওলিও। গত সোমবার মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে।
এই মন্তব্যের কথা স্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান ওলিও বলেন, ‘ফেসবুক লাইভে একজনের প্রশ্নের জবাবে আমি বলেছি এটা (মদ) মেডিসিন হিসেবে খায়, তোমাকে (প্রশ্নকারী) ব্যবস্থা করে দিব, যদি ডাক্তার বলে।’
লাইভে তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলতে চাই না, আমরা তো ঘুষ খাই না। আমরা তো শুনি মানুষের মনে কষ্ট দেই না। এসব নিয়ে বলতে চাই না। সরকারকে জিজ্ঞেস করেন লাইসেন্স কেন দেয়। তোমাদের সরকারই তো দিচ্ছে, কেউ তো দেয়নি এতো বছরের ভেতরে, ২০-৩০ বছরের ভেতরে কেউ দেয়নি। আমাদের সরকার এসেই তো লাইসেন্স দিয়ে ভরিয়ে ফেলছে দেখলাম। আমার ম্যানেজাররাও লক্ষ কোটি টাকা চুরি করে ৩-৪ টা করে মদের বার দিয়েছে। যদিও আমি এখন এই ব্যবসাতে নেই। আমার সন্তানরা থাকা মানেই আমি থাকা, এটা কোনো ব্যাপার না। ব্যবসা আমার পবিত্র ব্যবসা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যাংকের ব্যবসা করি। ইসলামের বিধান আছে তুমি যেটার কথা বলছো (মদের ব্যবসা) এটার জন্যে যদি ১০টা বেত মারে, ব্যাংকের ব্যবসার জন্যে মারবে ১০০টা বেত। কিন্তু ব্যাংকের ব্যবসা নিয়ে কিছু কয় না।’
তার মদের ব্যবসা সম্পর্কে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি হালাল ব্যবসা করি, এসব সরকার বুঝবে। হালাল না হলে কী সরকার ব্যবসা করে! না হলে সরকারই তো বেহালাল হয়ে যাবে। এই ব্যবসা নিয়ে ইসলাম কী বলে তা সরকার বুঝবে।’ এ সময় তিনি সরকারকে জিজ্ঞেস করার পরামর্শ দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বক্তব্য পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই।
জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
ফিরোজুর রহমান ওলিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ৫ বারের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। তিনি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা পরিচালক। রাজধানীতে তার মালিকানাধীন একাধিক মদের বার রয়েছে।
