বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

নিবন্ধিত ইসলামি দলের ৭টি নির্বাচনে, ৪টি বাইরে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ২১:৫৯

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসলামি দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত ইসলামি দলের সাতটি নির্বাচনে যাওয়ার এবং চারটি না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নিবন্ধিত ইসলামি দলের সংখ্যা বিবেচনা করলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাল্লাই এখন ভারি। তবে প্রভাব বা ভোটের হিসাবের বিবেচনায় প্রভাবশালী ইসলামী দলগুলো এখনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তেই আছে।

বাংলাদেশে নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত ইসলামি দল সব মিলিয়ে ৭০টিরও বেশি। এর মধ্যে নিবন্ধিত আছে ১১টি ইসলামপন্থী। নতুন করে দুইটি দল নিবন্ধন পাওয়ার পর এখন বাংলাদেশে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৪টি।

নিবন্ধিত ইসলামি দলগুলো হলো-বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, জাকের পার্টি, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামিক ফ্রন্ট, খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এর মধ্যে সুপ্রিম পার্টি সদ্য নিবন্ধন পাওয়া। এর বাইরে বড় ইসলামি দলের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর এখন নিবন্ধন নেই।

যারা নির্বাচনে যাবে না

নিবন্ধিত ইসলামি দলগুলোর মধ্যে কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক চারটি দল নির্বাচনে যাবে না বলে জানা গেছে। সেই দলগুলো হলো-ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস। আর নিবন্ধন না থাকলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং প্রভাবশালী ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচনে যাচ্ছে না। তারা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ সরকারবিরোধী আন্দোলনে আছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০১৮ সালের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিলো। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারা ভালো ভোট পেয়ে দৃষ্টি কাড়ে।

ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্বতন্ত্র। আমরা বিএনপির সঙ্গেও নাই, আওয়ামী লীগের সঙ্গেও নাই। আমরা মনে করি দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কিছুটা সম্ভব হলেও পুরোপুরি সম্ভব নয়। তাই আমরা জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই।’

তিনি জাতীয় সরকারের ব্যাখ্যায় বলেন,‘নিবন্ধিত সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই নির্বাচনকালীন সরকার হবে। এই সরকারের প্রধান হবেন একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি।’

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘২০১৮ সালে আমরাই সবার আগে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। তখন থেকেই আমরা বলেছি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, কারণ ওই নির্বাচন দলীয় সরকারের বাইরে করার সুযোগ নেই।’

যারা নির্বাচনে যাচ্ছে

নিবন্ধন থাকা ১১টি ইসলমি দলের মধ্যে সাতটি দল নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলগুলো হলো-বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন, জাকের পার্টি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এর মধ্যে শুধু তরীকত ফেডারেশনের গত দুইটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল।

গত বৃহস্পতিবার রাতে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোটসহ ৯টি ইসলামি দলের নেতা গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে অংশ নেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর শাহীনূর পাশা চৌধুরী। তিনি ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে হারলেও ২০০৫ সালে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের উপনির্বাচনে একই প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বৈঠকে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত আমিনী ছাড়াও তার দলের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহও ছিলেন। আরও ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আতাউল্লাহ হাফেজ্জী। তিনি হেফাজতে ইসলামেরও নায়েবে আমির। তার বাবা ‘হাফেজ্জী হুজুর' নামে পরিচিত প্রয়াত মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন।

বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী ও আশেকানে আউলিয়া ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান আলম নূরী।  

বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নেতারাও এই বৈঠকে ছিলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমরা কোনো চাওয়া পাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করিনি। আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি মূলত সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা থেকে। নির্বাচন না হলে সাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে। সর্বোপরি আন্তর্জাতিক মহলের যে কার্যক্রম তাকে আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত মনে করছি। তাই আমরা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপির দাবির সঙ্গে একমত না। তাদের বার বার আমরা বলেছি আপনারা একদফা দাবি ছেড়ে সার্বিক সংকট নিরসনে আলোচনায় বসুন। সেখান থেকে যে সমাধান আসে সেটা আমরা দেখি। কিন্তু তারা সেটা মানছে না। বিএনপি যা করছে তাতে সংলাপ হয় না, সংঘাত হয়। আর আমরা মনে করি কোন দল অংশগ্রহণ করল কী না সেটা নয়, জনগণের অংশগ্রহণের ওপরই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নির্ভর করে।’ এই দলটি এবার কমপক্ষে ২০০ আসনে প্রার্থী দেবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে নিবন্ধিত ইসলামি দল ছাড়াও আরও ৫০টির মতো ইসলামপন্থী দল সক্রিয় রয়েছে। তারাও আসলে বড় ইসলামি দল বা জোটের ব্যানারে থাকছে। ২০১৮ সালের বিভিন্ন জোটের হিসাব বলছে জাতীয় পার্টির সঙ্গে মোট ৩২টি ইসলামি দল নানাভাবে সম্পৃক্ত আছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ২৯টি এবং বিএনপির সঙ্গে আছে পাঁচটি। তারাও ভোটের সময় সক্রিয় হয়, ভূমিকা পালন করে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণের হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন হারুন উর রশীদ স্বপন। এই প্রতিবেদনের সব ধরনের দায়ভার ডয়চে ভেলের।

ইত্তেফাক/এএএম