বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

তেজগাঁওয়ে ভুবন হত্যায় জড়িত ৯ সন্ত্রাসী আত্মগোপনে

  • মামলা তদন্ত থেমে গেছে, নিহতের পরিবারের কেউ খোঁজ নেয়নি
  • গ্রুপের অন্যরা হলেন কিলার কামাল, তপু, রায়েরবাজারের মুন্না, জিটু, আফজাল, ডাকাত রফিক, ধানমন্ডির হেজাজ ও তাহাজিব
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:০০

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বিজি প্রেস এলাকায় অ্যাডভোকেট ভুবন চন্দ্র শীল নিহতের ঘটনায় জড়িত কাউকে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটির তদন্ত একেবারে থেমে গেছে। জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতির কারণে এ ধরনের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ঐ এলাকায় অন্তত চারটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া তারিক সাঈদ মামুনকে টার্গেট করে সন্ত্রাসীরা। মামুন মগবাজারের পিয়াসী বার থেকে বের হয়ে উবারের গাড়িতে করে তার দুই বন্ধুসহ শুক্রাবাদের বাসার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিজি প্রেসের সামনে পাঁচটি মোটরসাইকেলে সন্ত্রাসীরা তার গাড়ির গতিরোধ করে। সন্ত্রাসীরা মামুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। মামুনও তখন সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পিস্তল উঁচিয়ে ধরলে, সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। প্রায় ১৫-২০ রাউন্ড গুলির শব্দ। এ সময় গুলশানের অফিস থেকে মোটরসাইকেলে বাড়িতে যাওয়ার পথে ভুবন চন্দ্র শীল গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুবনের মৃত্যু হয়।  এ ঘটনায় ভুবনের স্ত্রী রত্না রানী শীল বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পুলিশ মারুফ বিল্লাহ ওরফে হিমেল নামে একজনকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এ ব্যাপারে তেজগাঁ শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীরা আত্মগোপন করে। এ কারণে আমাদের তদন্ত কাজ থেমে ছিল। তবে সম্প্রতি বেশ কয়েক জন সন্ত্রাসীর অবস্থান পুলিশ জানতে পেরেছে। তদন্তের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে।

নিহত ভুবন চন্দ্র শীলের স্ত্রী রত্না রানী শীল বলেন, স্বামী নিহত হওয়ার পর কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। আহত অবস্থায় তাকে পপুলার হাসপাতালে এক সপ্তাহ রেখে চিকিত্সা করানো হয়েছিল। হাসপাতালের প্রায় ৬ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করেছি ধার করে। ভুবনের কর্মস্থল গোমতী টেক্সটাইল লিমিটেড থেকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। মেয়ে ভূমিকা চন্দ্র শীল এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার অপেক্ষায়। এখন আমরা ফেনীতে গ্রামের বাড়িতে থাকছি।

মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে রত্না রানী শীল বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা ফোন করে মামলার তদন্ত সংক্রান্ত কোনো কিছুই জানায়নি। এমনকি তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা যোগাযোগ পর্যন্ত করেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুন ১৯৯৭ সালে খিলক্ষেতে হারিস আহমেদ ও জোসেফের বড় ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলা, ১৯৯৪ সালে জিগাতলায় খায়রুল হত্যা ও ১৯৯৭ সালে গুলশান ট্রাম্প ক্লাবে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। এর মধ্যে সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ১৯৯৮ সালে মামুন গ্রেফতার হন। ঐ মামলায় ২৫ বছর কারাবন্দি থাকার পর গত আগস্ট মাসে হাইকোর্টের জামিনে তিনি মুক্তি পান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুন হত্যাচেষ্টার মিশনে অংশ নেওয়া ৯ জনের টিমের নেতৃত্ব দেয় ‘ছোট’ নামে এক সন্ত্রাসী। রায়েরবাজারের ছোট নামে এই সন্ত্রাসী হাল আমলে অত্যন্ত ভয়ংকর কিলার গ্রুপের নেতৃত্ব দেয়। তাদের গ্রুপের অন্যরা হলেন কিলার কামাল, তপু, রায়েরবাজারের মুন্না, জিটু, আফজাল, ডাকাত রফিক, ধানমন্ডির হেজাজ ও তাহাজিব। এদের মধ্যে হেজাজসহ তিন জন ঘটনার পর ভারতে আত্মগোপন করেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য মিলেছে।

এ ব্যাপারে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে আইনজীবী ভুবন চন্দ্র শীল হত্যার ঘটনায় বেশ কয়েক জন সন্ত্রাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তারা সবাই আত্মগোপনে রয়েছে। র‍্যাব তাদেরকে আটক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম