বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

বাদ পড়লেন অনেক এমপি, নতুনদের প্রাধান্য

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ২১:২৮

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে মনোনয়ন ঘোষণা করেছে। দুইটি আসনের প্রার্থী পদও ঘোষণা করা হবে।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রোববার বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের নাম ঘোষণা করেন।

তবে এবার আওয়ামী লীগের এমপিদের মধ্যে ৬০ জনেরও বেশি বাদ পড়েন। নতুন মুখ এসেছেন প্রায় ১০০ জন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ ও কুষ্টিয়া-২ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। পরে ঘোষণা করা হবে বলে ওবায়দুল কাদের জানান। কুষ্টিয়া-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি ২০০৯ সাল থেকেই এ আসনে জাসদের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে আসছেন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এ কে এম নাসিম ওসমান। জাতীয় পার্টির এমপি নাসিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি শামীম ওসমানের ভাই।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ এবং দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী -৫ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তারকাদের মধ্যে নতুন মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা-১০ আসনে চিত্র নায়ক ফেরদৌস এবং মাগুরা-১ আসন থেকে অলরাউন্ডার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। আর নড়াইল-২ আসনের বর্তমান এমপি ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মোর্তুজা আবারও ওই আসনেই মনোনয়ন পেয়েছেন।

বর্তমানে যারা আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আছেন তাদের মধ্যে মধ্যে তিনজন প্রতিমন্ত্রীও মনোনয়ন পাননি।  বাদ পড়া প্রতিমন্ত্রীরা হলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

আরও হেভিওয়েট যারা বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখর, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম, সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পঙ্কজ নাথ, মুরাদ হাসানসহ আরও অনেকে।

আগামী ৩০ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন। তার আগেই আওয়ামী লীগসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দল মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে।

তবে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের এই মনোনয়নও রদবদল হতে পারে। কারণ জোট গঠনের প্রক্রিয়া এখনো চলছে। আওয়ামী লীগের ১৪ দলের জোট আছে। এছাড়া আরও ছোট ছোট কয়েকটি দল নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আছে কিছু ইসলামি দল। তাই যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের মধ্যে কিছু প্রার্থী বাদও পড়তে পারেন।

আবার জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট না হলেও আওয়ামী লীগের আসন সমঝোতা হতে পারে। সেক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগের কিছু প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন। এমনকি নির্বাচন কমিশন প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার পরও অন্য দলের সঙ্গে বিভিন্ন আসনে প্রার্থী সমঝোতা হতে পারে।

আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টিও এবার ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে আছে। তাদের ডাকা চলমান অবরোধ কর্মসূচির মধ্যেই আওয়ামী লীগ রোববার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল।

বিএনপি ও তাদের সমমনারা নির্বাচনে না আসায় এবার ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই কারণে শাসক দল আওয়ামী লীগ চায় এবার নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে যেন প্রার্থী সংখ্যা বেশি হয়। সেজন্য আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

তৃণমূল বিএনপি এবং কিংস পার্টি নামে পরিচিত বিএনএফ-এ সাবেক ও বর্তমান বিএনপি নেতাদের ভেড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে। এছড়া বিভিন্ন আসনে ‘পপুলার’ প্রার্থীদের প্রয়োজনে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড় করানোরও চেষ্টা আছে। অন্যদিকে এবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারেও দল থেকে নমনীয় থাকা হবে বলে জানা গেছে।

রোববার বিকালে মনোনয়ন প্রাপ্তদের তালিকা ঘোষণার আগে সকালে গণভবনে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ যেন নির্বাচিত হতে না পারেন সেদিকে দৃষ্টি রাখতে বলেন।

নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার তাগিদ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ পাস করে আসতে পারবেন না। অন্য দলের প্রার্থী না থাকলে প্রত্যেক প্রার্থীকেই একজন করে দলীয় ডামি প্রার্থী রাখতে হবে।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে নৌকার প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা অন্যান্য দলের কেউ প্রার্থী হলে তাকেও সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান। দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর পাশাপাশি দলের যে কোনো নেতা বা যে কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, এবার দলের মনোনয়নে ত্যাগীদেরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সে কারণেই অনেকে বাদ পড়েছেন। নতুন মুখ এসেছে। শেখ হাসিনা আগেই বলেছিলেন যারা দলের জন্য কাজ করেন, সৎ ও যোগ্য তাদেও মনোনয়ন দেয়া হবে। তার প্রতিফলন ঘটেছে।

তার কথা, নতুন আর পুরাতন মিলিয়েই দল এগিয়ে যায়। মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রেও সেই নীতি তুলে ধরা হয়েছে।

আর দলটির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘এবার যেহেতু বিএনপি এবং তাদের সমমনারা নির্বাচনে নেই তাই জোট করার তেমন হয়তো প্রয়োজন নাই। তারপরও আমাদের ১৪ দল আছে। আরও কিছু হিসাব-নিকাশ থাকে। সেই বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত হয়তো এই মনোনয়নে কিছু পরিবর্তন হতে পারে।’

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণের হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন হারুন উর রশীদ স্বপন। এই প্রতিবেদনের সব ধরনের দায়ভার ডয়চে ভেলের।

ইত্তেফাক/এএএম