রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

মাদারীপুরে আলোচিত হত্যা মামলায় ৪৪ আসামিকেই খালাস

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ২১:৪১

মাদারীপুরে ২০০৫ সালের আলোচিত ইরিব্লকের ম্যানেজার আশরাফ আলী বেপারীকে নিশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা মামলায় সব আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-০১ এর বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস এ রায় দেন। এর আগে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো আদালত জুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ২০০৫ সালের ১২ মার্চ সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের আমড়াতলা গ্রামের হামিদ বেপারীর ছেলে আশরাফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পরদিন নিহতের বড়ভাই সিদ্দিকুর রহমান বেপারী বাদী হয়ে ৪৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২২ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর ২০০৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারি পুলিশ সুপার মো. শাহ নেওয়াজ খালেদ ৪৬ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ সময় এজাহারনামীয় ৪ আসামী ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলেও উল্লেখ করেন। পরে বিভিন্ন সময় আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসারসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দোষ প্রমাণ না হওয়ায় আদালত এজাহারনামীয় সকল আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

এ সময় ৯৫ পৃষ্টার রায়ে আদালত বলেন, পূর্বের শত্রুতা ও পুরনো ৪টি মামলা থেকে মুক্তি পেতে এই হত্যা মামলায় আসামিদের জড়ানো হয়েছে। যা সমাজের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। রাষ্ট্রপক্ষ এই হত্যা মামলায় পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারিনি। এছাড়া বাদীপক্ষের সাক্ষির কেউই ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করতে পারিনি। এমন কি নিহতের স্ত্রীও তার সাক্ষিতে তিন রকম কথা বলেছে। আদালত সবকিছু বিবেচনা করে দেখেছে এই হত্যাকাণ্ড এজাহারনামীয় আসামিদের মাধ্যমে সংগঠিত হয়নি। এই ঘটনায় অন্যরা দায়ী, যা প্রমানে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাই সব আসামিই খালাস পেয়েছে।

আসামীপক্ষের আইনজীবী মো. জাফর আলী মিয়া জানান, এই রায়ের মাধ্যমে আসামিপক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছে। আশরাফকে হত্যা করা হলেও মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা জড়িত ছিলেন না। পূর্ব শত্রুতার বশেই এই মামলায় আসামিদের নাম দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন আসামিরা এই মামলায় হয়রানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে, রায়ের মাধ্যমে আসামিপক্ষ সন্তুষ্ট।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পিপি আইনজীবী গোলাম আজম শামীম গৌড়া বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ আপিল করবে। বাদীপক্ষ মামলায় যথেষ্ট সাক্ষ্য ও প্রমান আদালতে উপস্থাপন করেছে। তাই রায় নিয়ে বাদীপক্ষ ক্ষুব্ধ।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলনে, হত্যাকাণ্ডের রায়কে ঘিরে পুরো আদালতজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রায়ের আগে আদালতপাড়া থেকে অপিরিচিত লোকজন ও আদালতের কাজে সংশ্লিষ্ট নয়, এমন সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আসামিদের আদালতে হাজির করা ও রায় শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

ইত্তেফাক/পিও