বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের সর্বশেষ  

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১৬:৫৫

গাজায় টানা চারদিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির শেষ দিনে, হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী ইসরায়েলি জিম্মিদের আরও একটি দলকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে একদল ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্ত করা হয়েছে। 

স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার মধ্যরাতে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ৩৩ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে হামাস ১১ ইসরায়েলি বন্দীকে মুক্তি দেয়। যারা ছিলেন ফ্রান্স, জার্মানি বা আর্জেন্টিনার দ্বৈত নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি।

চারদিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা মঙ্গলবার এবং বুধবার দুই দিন যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

কাতার বলেছে, ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই দিন বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। 

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কারবি বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে হামাস আরও ২০ জন নারী ও শিশুকে মুক্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, বাস্তবে না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছুই চূড়ান্ত নয়। আজ রাতেও পরিস্থিতি এগিয়েছে, তবে এ জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন।' 

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য যে পরিবারগুলো প্রিয়জনের অপেক্ষায় প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছেন, অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তাদের কথা ভেবে অপহৃতদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা। এটা চলতি কাঠামোর ধারাবাহিকতার মাধ্যমে বা যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে হতে পারে।' 

এক কথায় তিনি এখানে যুদ্ধবিরতি বাড়তে পারে আবার যুদ্ধ পুনরায় চালু হতে পারে এই দুটি সম্ভাবনার কথাই বলেছেন।  এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যে মানবিক ত্রাণ সহায়তার ভর্তি আরও কিছু ট্রাক সোমবার গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করেছে। সহায়তা সংস্থাগুলি মূলত যুদ্ধপীড়িতদের মধ্যে খাবার, জ্বালানী এবং ওষুধ বিতরণ করছে।

গাজাবাসীর জন্য জরুরি ত্রাণ বিতরণ আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। কিন্তু তারা এটাও সতর্ক করে বলেছে, যে পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা আসছে তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। সমুদ্রে এক ফোটা পানির মতো।

এরপরও গাজাবাসীরা জরুরি ত্রাণ সহায়তা পেতে এবং নিরাপদে গাজায় চলাফেরা করতে, যুদ্ধে বিরতির এই সময়টি ব্যবহার করছে– অনেকেই তাদের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।

আবার যাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছে তারা কী পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখতে যাচ্ছেন। অনেকে শীতের কাপড়ের সন্ধান করছেন। কেননা গাজায় বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো বাতাস দেখা দিতে শুরু করেছে। 

অনেকেই ভাবছেন যে গাজায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই দিন বাড়ানো হলে সামনে আরও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করতে পারে। এটা নির্ভর করছে হামাস কি দিতে পারে তার উপর। যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে তাদের প্রতিদিন ১০ জন করে জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে।

জিম্মিরাও গাজাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তারা শুধু হামাসের হাতেই নয়, অন্যান্য অনেক দল ও গোষ্ঠীর হাতেও জিম্মি অবস্থায় আছে। তাদের কাছে পৌঁছানো সবসময় সহজ নয়। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বেশ জটিল রূপ নিয়েছে।

যদি এই সুষ্ঠুভাবে দুই দিন যুদ্ধবিরতি বাড়ে- এবং হামাস যদি আরও জিম্মিদের মুক্তি দেয়– তাহলে এই যুদ্ধ বিরতি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হতে পারে। এ ব্যাপারে উভয়পক্ষ থেকে নেতিবাচক কিছু শোনেননি বিবিসির সংবাদদাতা লুসি উইলিয়ামসন।

তবে ইসরায়েল বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিতে কতোটা এগোবে তার একটি সীমা আছে। এবং এটাও খুব স্পষ্ট যে একবার সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে, ইসরায়েল পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে যুদ্ধে ফিরে যাবে। তারা এটাও বলেছে, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য, হামাসকে নির্মূল করা।

ইত্তেফাক/এসআর