রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

চলনবিলে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আটকা পড়ছে শিকারির ফাঁদে

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ২২:০৩

নেমেছে চলনবিলের পানি। ধান কাটার পর বিলে মিলছে ছোট মাছ। মাছ খেতে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। পাখির এমন অবাদ বিচরণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে শিকারিরা। বিষটপ, জাল, পড়শিতে আটকে শিকারের খাঁজায় বন্দি হচ্ছে এসব পাখি।
 
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাদা বক, মাছরাঙা, ভারই, ঘুঘু, বালি হাঁস, রাতচোঁরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মিলছে চলনবিলে। একশ্রেণির শিকারিরা রাতে এবং কুয়াশার ভোরে এসব পাখি শিকার করছেন। শিকার করা পাখি হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে হরহামেশাই। আইনের তোয়াক্কা না করে এভাবে নির্বিচারে পাখি শিকার করে এক শ্রেণির অসাধু শিকারিরা স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রিও করছেন। অথচ বন বিভাগের কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। 

পরিবেশকর্মীদের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, শীতের শুরুতে পানি নেমে চলনবিলের মাঠে মাঠে প্রচুর পাখির আগমন ঘটে। আপাত দৃষ্টিতে যতদূর চোখ যায় ঝাঁকে ঝাঁকে বালিহাঁস, বাটুল, চখাচখি, শামুকখোল, পানকৌড়ি, কাদাখোঁচা, রাতচোরা, শালিক, মাছরাঙা, ভারই, ঘুঘু, বালি হাঁস, বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি নামতে শুরু করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির শৌখিন ও পেশাদার পাখি শিকারি পাখি নিধন করছেন। এসব পাখি ধরতে শিকারিরা ব্যবহার করছেন বিষটোপ, জাল, কলাপাতার ঘরের বিশেষ ফাঁদ এবং পড়শি। 

যেসব এলাকায় পাখি শিকার হচ্ছে, গুরুদাসপুরের খুবজিপুর, বিলশা, রুহাই, যোগেন্দ্রনগর, হরদোমা, পাঁচশিশ, কাছিকাটা, মশিন্দা, ধারবারিষা, সিংড়া, তাড়াশ, চাটমোহর, পাবনা ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে পরিযায়ি এসব পাখি শিকার করা হচ্ছে। 

আইন যা বলছে, প্রথমে ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণি রক্ষা আইন হয়। এরপর ২০১২ সালে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে শিকারিদের দণ্ডের বিধান রয়েচে। আইনে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি রয়েছে এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান। কেউ যদি বার বার পাখি শিকার করেন তাহলে অপরাধীর দুই বছরের জেল, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই আইনের কোনো প্রয়োগ হচ্ছে না। 

কয়েকজন পাখি শিকারি ইত্তেফাককে জানান, পাখি শিকার করা অপরাধ, এটি তারা জানেন না।

গুরুদাসপুরের বিভিন্ন এলাকার পাখি শিকারি, আমিন মোহাম্মদ, শকিল আলী, আমিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, হাট-বাজারে পাখির চাহিদা ভালো। রাত জেগে ভোর পর্যন্ত তারা পাখি শিকার করেন। পাখি বিক্রি করতে হাটে বাজারে কোনো সমস্যা হয়না। প্রতি জোড়া সাদা বক ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, চখাচখি ১০০ থেকে ১২০, কাইয়ুম পাখি ৩৫০ থেকে ৪০০ ও বালিহাঁস ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। 

গুরুদাসপুর রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক সায়মা চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, পাখি ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। পাখিরা শুধু প্রকৃতির শোভা বর্ধনের সঙ্গে ভারসাম্যও রক্ষা করে। পাখি শিকার বন্ধে আইন থাকলেও প্রয়োগ না থাকায় চলনবিল থেকে নানা প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হচ্ছে। এভাবে পাখি ধরা বন্ধ করতে শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতামূলক প্রচারণা।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রাবণি রায় ইত্তেফাককে বলেন, পাখি শিকার বন্ধে অভিযান জোরদার করবেন তিনি।

ইত্তেফাক/পিও