সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

সুষ্ঠু নির্বাচন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা, মনিটরিং করছে পুলিশ সদর দপ্তর

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ১০:২০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক আসনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এসেছে। ওই সকল সংস্থার কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে ভূমিকা ও প্রার্থীদের সহিংস আচরণ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাদের তালিকা প্রণয়ন করে শীর্ষ প্রশাসনের কাছে পাঠাবেন। কোন কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী শক্তি প্রয়োগের জন্য বহিরাগত কিংবা চিহ্নিত অপরাধীদের দিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র অন্য রকম। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের এক শ্রেণীর কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনুপ্রবেশকারী কিংবা নব্য হাইব্রিড আওয়ামী লীগ সেজে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন অনেকে। এই সকল প্রার্থী এলাকায় সহিংসসহ চিহ্নিত মাস্তান নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। তারা ভীতসন্ত্রাস্ত পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। এদের কার্যক্রম আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেখেও না দেখার ভান করে চলেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর নেপথ্যে রয়েছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। একটি উপজেলার এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই থানার ওসি এর আগে ফরিদপুরে একটি থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণ, কারণ ছাড়া মানুষকে থানায় আটক করে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ সম্পর্কে সম্প্রতি প্রথম আলোসহ একাধিক দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সহ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে প্রকাশিত নিউজের কাগজপত্রসহ অনিয়মের অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ওই ওসিকে পুরস্কার হিসেবে পার্শ্ববর্তী জেলায় উক্ত থানায় বদলি করা হয়। এলাকাবাসী বলেন, তিরস্কার না করে তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।  এই বিষয়গুলোও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। এইসব দুর্নীতিবাজ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে অনেকে আশংকা করছেন।

একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, অনেক আসনে এই ধরনের তথ্য তারা পাচ্ছেন। অনুসন্ধান করে বিষয়টি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শীর্ষ প্রশাসনকে জানানো হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সংখ্যক শীর্ষ ও মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কিছু সংখ্যক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিদেশে টাকা পাচার করেছেন, সেখানে তাদের বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে। এমন তালিকাও গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে। পাচারকৃত সম্পদ রক্ষা করার জন্য ওই সকল দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নে দলবাজ সেজে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে ওই সকল কর্মকর্তারা লিপ্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনকে সেই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সিইসিও এই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। ৩০টিরও অধিক রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে। 

একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, তারা দ্রুত মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং করে এই সকল কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদেরকে নির্বাচনকালে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।  

ইত্তেফাক/এমএএম