বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

লোকালয়ে বিক্রি হচ্ছে সুন্দরবনের গোলফল

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ০২:০০

সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী পামজাতীয় উদ্ভিদ গোলপাতা। বিশ্বের প্রায় সব ম্যানগ্রোভ বনেই প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় গোলপাতা গাছ। সুন্দরবন ছাড়াও বাগেরহাট জেলা সদর, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও চিতলমারী, খুলনার দাকোপ, বটিয়াঘাটা এলাকার নদীনালা ও খালবিলের পাশেও গোলগাছ দেখা যায়। এ গাছের গোড়ায় জন্ম হয় কাঁদি-কাঁদি গোলফল। গোলপাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মানুষ এখন গোলফল কেটে খুলনা, বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন লোকালয়ে বিক্রি করছে। নতুন ফল হওয়ায় মানুষের মধ্যে এর চাহিদা অনেক।

তালসদৃশ লম্বায় তিন থেকে চার ইঞ্চি ফলগুলো দেখতে কিছুটা ছোট আকৃতির নারকেলের মতো। গোলফলের এক কাঁদিতে প্রায় ৫০-১৫০টির মতো ফল থাকে। শক্ত খোসা কেটে অপরিপক্ব নরম আঁটিগুলোকে খাওয়া হয় ফল হিসেবে। সাদা রঙের আঁটিগুলো স্বাদে অনেকটা তালশাঁসের মতোই। ঘ্রাণ কিছুটা অন্যরকম। একসময় শখের বসেই গোলফল খাওয়ার চল ছিল উপকূলবর্তী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে।

বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়নের সাচিবুনিয়া বিশ্বরোড চৌরাস্তা মোড়ে ভ্যানের ওপর গোলফল নিয়ে বসেছেন আব্দুর রহমান শেখ। বাগেরহাট ষাটগম্বুজ এলাকায় তার বাড়ি। প্রথমে ষাটগম্বুজের পাশে বসেই বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে গোলফল কেটে বিক্রি করতেন। প্রতিটি ফলের মূল্য ১০ টাকা। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের চাপে এলাকা ছেড়ে বটিয়াঘাটায় এসেছি। গ্যাংগ্রিনে দুই পা পঙ্গু হওয়ার পর এখন গোলফল বিক্রি করে সংসার চলে।’ প্রতিদিন ৪০-৫০ কাদি ফল বিক্রি হয়। কাঁদিতে ৫০-৬০টি করে ফল থাকে। তিনি নিজে বনে না গেলেও অন্যলোক গিয়ে কেটে এনে দেন।

সহকারী বন সংরক্ষক এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, ‘সুন্দরবন থেকে গোলফল কেটে আনা সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে ফল নিয়ে একবার লোকালয়ে চলে এলে ধরার নিয়ম নেই।’

ইত্তেফাক/এমএএম