বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

জবিতে নিরাপত্তাকর্মীর সংকট বাড়ছে চুরি-ছিনতাই

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৩০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে। তবে পর্যাপ্তসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় বন্ধ করা যাচ্ছে না এসব চুরির ঘটনা। এছাড়া চুরির পর তদন্ত কমিটি গঠন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ। তাই আবারও দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় বর্তমানে নিয়োজিত ১৮ জন নিরাপত্তাকর্মী। নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে তিন শিফটে কাজ করেন ১৮ জন অর্থাৎ এক শিফটে ছয় জনের ওপর পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব।

এর মধ্য থেকে আবার দুই জন মূল ফটকে ও এক জন দ্বিতীয় ফটকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন। বাকি তিন জন দিয়ে চলে নতুন একাডেমিক ভবন, কলা ভবন, বিজ্ঞান ভবন, প্রশাসনিক ভবনসহ পুরো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা।

জানা যায়, গত বছর নতুন একাডেমিক ভবনের পেছনের অংশের গ্রিল কেটে ছাত্রী কমন রুমের ওয়াশ রুম ও পরিবহন দপ্তরে চুরির ঘটনা ঘটে। একই সময়ে শিক্ষক সমিতির ওয়াশ রুমে চুরির চেষ্টা চালানো হয়। এছাড়াও সিসিটিভি ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) কাচের বেড়া ও দরজা ভেঙে চুরি হয়। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজে বিভিন্ন সময় সাইকেল, মোটরসাইকেলের তেল ও হেলমেট এমনকি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটেছে। ক্যাম্পাসের সীমানা বাউন্ডারি দেওয়ালের গ্রিল কাটার সময় এক চোরকে হাতেনাতে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে কিছুদিন পরপরই ঘটে জুতা চুরির ঘটনা। কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম থেকে মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় বোরকা পরিহিত এক মহিলা। এরপর গত অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেইটে দুপুরে এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ছিনতাইকারী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেইট সংস্কারের পর থেকেই বন্ধ হয়ে আছে, যার প্রধান কারণ নিরাপত্তারক্ষীর সংকট। বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে ও ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান রনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সাড়া পাওয়া যায় নি। সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, এ বিষয়ে ইউজিসির কাছে ৫৪ জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীর সংকট রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়। আর চুরির ঘটনায় থানায় জিডি হয়। পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করে থাকে প্রশাসন।

ইত্তেফাক/এমএএম