বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

সহিংস ঘটনা যে কারণে ঘটছে

জিতিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি সিন্ডিকেটের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গণহারে গ্রেফতার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:০০

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেট নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থীকে জিতিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।

এই সিন্ডিকেটের প্রভাব বিস্তারের কারণে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আবার অনেককে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আবার তালিকা ধরে গণহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এজাহারভুক্ত আসামি এবং যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে তাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে। তবে এ অজুহাত টিকছে না। অন্য প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মামলা থাকলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। প্রকাশ্যেই তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফলে এসব কারণে গতকাল পর্যন্ত ২০টি সংসদীয় আসনে সহিংস ঘটনা ঘটছে। আহত হয়েছেন বেশ কিছুসংখ্যক উভয় পক্ষের নেতাকর্মী। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপকহারে সহিংস ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা। 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ—এমন ঘোষণা দিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। একই ঘোষণা দিয়ে আসছেন সিইসি। এমনকি মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনকেও বারবার এ ধরনের নির্বাচন যাতে করা সম্ভব হয়, সেজন্য দফায় দফায় নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশও বাংলাদেশে একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখার অপেক্ষায়।

এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দলীয় প্রার্থীরা পাশাপাশি যারা দলের নমিনেশন পাননি তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে মাঠে। তারা অনেক প্রার্থীকে জিতিয়ে দেওয়ার কথা বলে কোটি কোটি টাকা নিচ্ছেন। যে সব প্রার্থী সিন্ডিকেটকে টাকা দিচ্ছেন তারা এবার মাঠ ছেড়ে যাবেন না। প্রতিটি আসনে দ্বিপক্ষীয় কিংবা ত্রিপক্ষীয় সহিংস ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে সহিংস ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে বলে কোনো কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, আমরা কাউকে ছাড় দেব না। তবে মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভিন্নরূপ।

এমন অভিযোগও রয়েছে যে, নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার আগে এক শ্রেণির ওসি এবং জেলায় এসপি পদে পোস্টিং বাগিয়ে নিতে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়েছেন। ফলে তাদের নির্দেশনা অনেক সময় পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে যাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে মোটা অঙ্কের লেনদেন। এর বিনিময়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের। এভাবেই ঘটছে গণগ্রেফতারের ঘটনা। একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, কোন কোন আসনে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তার তালিকা প্রস্তুত করার কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে মনিটর করার কথা বলা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত সদর দপ্তরের নির্দেশনা মাঠ পর্যায় পর্যন্ত কোনো ধরনের কার্যকর হচ্ছে না। এর নেপথ্যে রয়েছে ঘুষের টাকার ভাগাভাগি। এসব লোকের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে এক ধরনের আশঙ্কা থেকেই যায়।

ইত্তেফাক/এমএএম