বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

পাঁচ বছরে ২ হাজার ৫৯০ শিশু হত্যা 

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০২:৩০

সারাদেশে শিশুদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত (৪ বছর ৯ মাস) ৮ হাজার ৮৩২ জন শিশু সহিংসতার শিকার। যার বিপরীতে মামলা হয় ৪ হাজার ৬৭৫টি। সাজা পায় মাত্র ২৪ জন অপরাধী। এই সময়কালে ২ হাজার ৫৯০ জন শিশুকে হত্যা করা হয়। ধর্ষণের শিকার হয় ৩ হাজার ৫৯৬ জন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৫৮০ জন। এ সময় ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ১৫-১৯ বছরের মেয়েদের বাল্যবিবাহ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। 

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের শিশু অধিকার পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে ২০০০-২০২৩ নভেম্বর শিশু অধিকার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয় এবং ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত তথ্য লিখিতভাবে দেওয়া হয়।

চাইল্ড রাইটস কোয়ালিশন (বাংলাদেশের ১০টি শিশু অধিকারভিত্তিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং নেটওয়ার্কর সমন্বয়ে গঠিত একটি প্ল্যাটফরম) এর নেতৃবৃন্দ ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ :বাংলাদেশের শিশু অধিকার পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনায় বলেন, সামাজিক রূপান্তর ও তথ্য-প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে শিশু অধিকার পরিস্থিতিতে নানা নতুন ও জটিল দিক যোগ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সমস্যাগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করা এবং সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিশু অধিকারভিত্তিক সংগঠন, রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষসহ সমাজের সব পর্যায়ের অংশীজনদের সচেতন হতে হবে। বিদ্যমান নীতি-আইন-ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথা আধুনিক বাস্তবতায় শিশু-কিশোররা আরও বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগের সমন্বয় সাধন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য শিশুদের জন্য একটি পৃথক অধিদপ্তর গঠন জরুরি।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সাল। আরও উপস্থিত ছিলেন, সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড চাইল্ড রাইটস গভার্নেন্স-এর পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সমন্বয়ক সাফিয়া সামি প্রমুখ। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপনা করেন আসকের সমন্বয়ক তামান্না হক রীতি। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, এবছর ৯৭১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, হত্যার শিকার হয়েছে ৪৪৯ জন। এছাড়া শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী নির্যাতিত হয়েছে ২৩৯ জন। এছাড়া শিশু ধর্ষণের সংখ্যা ৩৯২ এবং বলাৎকারের শিকার হয় ৬৯ ছেলে শিশু। অনুষ্ঠানে বলা হয়, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি, কারণ গণমাধ্যম প্রচারিত সংখ্যার ভিত্তিতে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়।

ফারুখ ফয়সাল বলেন, ‘বাবা মা যে শখ করে বাল্যবিবাহ দেয় এমন নয়, এর সঙ্গে অভাবের সম্পর্ক রয়েছে।

আমরা শিশুর ওপর সহিংসতার মামলার ট্রায়াল ওয়াচের (বিচার পর্যবেক্ষণ) চিন্তাভাবনা করছি। এ বিষয়ে আমরা বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গেও কথা বলেছি।’

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কয়েক বছর ধরে আলাদাভাবে শিশু বাজেট দেওয়া হচ্ছে না। শিশুদের জন্য বরাদ্দ মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে পৃথক শিশু বাজেট দেওয়া প্রয়োজন। তিনি অভিভাবকের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদনের প্রয়োজন। নাছিমা আক্তার জলি বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে আমাদের দেশে অনেক সুন্দর কিছু আইন আছে। কিন্তু সেটা যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা না হয়, তাহলে আইন থেকেও কোনো লাভ নেই। বাল্যবিবাহ বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অভিভাবকদের অমতে বিয়ে করার প্রবণতা বিষয় তিনি বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে যথাযথ সচেতনতা তৈরি, উত্যক্তকরণ প্রতিরোধে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

ইত্তেফাক/এমএএম