বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

বেড়ায় মুদি দোকানেও বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল অকটেন

আগুনের ঝুঁকি বাড়ছে

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:২০

হরতাল-অবরোধকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল ঢেলে বাস-ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে সম্পদ বিনষ্টের পাশাপাশি জীবনহানিরও ঝুঁকি বাড়ছে। এরই মধ্যে পাবনার বেড়া উপজেলার হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও সড়কের পাশে যত্রতত্র এমনকি চা-মুদি দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার, অকটেন, পেট্রোলসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ।

উপজেলার অংশ জুড়ে অন্তত ৩০ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। এই মহাসড়কের বেড়া থেকে কাশীনাথপুর হয়ে নগরবাড়ী এবং কাশীনাথপুর থেকে কাজীরহাট পর্যন্ত অংশে মহাসড়কের দুই পাশে শতাধিক অবৈধ জ্বালানি তেলের দোকান রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর পাশে রয়েছে আরো শতাধিক পেট্রোল-অকটেন বিক্রির দোকান। সব মিলিয়ে উপজেলায় ২০০-৩০০’ অবৈধ খোলা তেলের দোকান রয়েছে। মূলত সড়ক-মহাসড়কের পাশের মুদি দোকানগুলোতে অবৈধভাবে বোতলে ভরে পেট্রোল-অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে। ইচ্ছা করলে যে কেউই এসব দোকান থেকে বোতলভর্তি পেট্রোল-অকটেন কিনে নিয়ে যেতে পারেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় তেল পাম্প রয়েছে মোট তিনটি। এ ছাড়া পাশেই রয়েছে উত্তরাঞ্চলের প্রধান তেল সরবরাহকেন্দ্র বাঘাবাড়ী নৌবন্দর। উপজেলার তেলপাম্পসহ বাঘাবাড়ী তেল সরবরাহকেন্দ্রের একটি অসাধু চক্রের কাছ থেকে তেল কিনে এনে বিক্রি করেন দোকানিরা। মূলত মোটরবাইক চালকেরা প্রতি লিটার পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেশি দিয়ে এসব দোকান থেকে তেল কিনে থাকেন। অনুমোদনহীন এসব দোকান দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তেল বিক্রি করছে। অথচ অনুমোদন ছাড়া প্রকাশ্যে দাহ্যপদার্থ বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। দাহ্যপদার্থ পেট্রোল বিক্রি করতে হলে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স নিতে হয়। এ ছাড়া অনেক দোকানে আবার অবৈধভাবে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারও বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন দোকানে এক কিংবা আধা লিটার ওজনের প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রোল অথবা অকটেন ভরে পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ঐসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপণ যন্ত্র। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জানা নেই প্রতিকারের ব্যবস্থা। হাটবাজার কিংবা আবাসিক এলাকায় এ ব্যবসার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

জ্বালানি অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠানে তেল ও গ্যাস বিক্রি করবে, তাদের বিক্রির স্থানকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে হয়। আইন অনুযায়ী তেল-গ্যাস বিক্রির স্থানে কমপক্ষে ফ্লোর পাকাসহ আধা পাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্সসহ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। এ ছাড়া থাকতে হবে জ্বালানি অধিদপ্তরের অনুমোদন। অথচ এসব শর্তের একটিও নেই উপজেলার গ্যাস ও খোলা তেল ব্যবসায়ীদের।

আবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার, পাড়া-মহল্লা, মুদি, প্লাস্টিক ও ইলেকট্রনিকস এমনকি ওষুধের দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। এখানকার ছোট-বড় ২৫-৩০টি বাজারে শতাধিক গ্যাসের দোকান রয়েছে। এসবের বেশির ভাগের লাইসেন্স নেই। একটু লাভের আশায় ফুটপাতে কড়া রোদে ফেলে রাখা হয় এসব সিলিন্ডার।

 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেড়া বাজারের দুই জন পেট্রোল বিক্রেতা জানান, মোটরসাইকেল চালকদের চাহিদার কারণেই তারা পেট্রোল বিক্রি করে থাকেন। পেট্রোলপাম্পের চেয়ে প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বেশি রাখেন। পেট্রোল পাম্প দূরে হওয়ায় মোটরসাইকেল চালকেরা খুশি হয়েই এই পাঁচ টাকা বেশি দেন। আর পেট্রোল বিক্রি করতে যে লাইসেন্স লাগে, সে সম্পর্কে তারা জানেন না বলে জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কখনো এ ব্যাপারে তাদেরকে কিছু বলা হয়নি।

কাশীনাথপুরের মেসার্স রতন ফিলিং অ্যান্ড এলপিজি অটো গ্যাস স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাদের মিয়া বলেন, ‘আমরা গাড়ি বা বাইক ছাড়া খোলাভাবে কোনো তেল বিক্রি করি না। থানা থেকে এ ব্যাপারে আমাদের নিষেধ করে দেওয়া আছে।’ বেড়া ফায়ার সার্ভিস এর ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, ‘সরকার পেট্রোলপাম্প থেকেই যেখানে যানবাহন ছাড়া খোলা তেল বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে অবাধে মুদি দোকানসহ যত্রতত্র বোতলে করে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অবৈধ এই তেল বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’

বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাদিউল ইসলাম বলেন, ‘খোলা তেল বিক্রেতাদের ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/এএইচপি