বিশ্বকাপে ভারত থেকে ব্যাগভর্তি হতাশা নিয়ে ফেরার পর ব্যাস্ত সময়ই কাটাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি টেস্ট সিরিজ শেষেই নিউজিল্যান্ড সফরে যাবেন টাইগাররা। সেখানে ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ, এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
আর এই সফরের জন্য গত পরশু ভিন্ন ভিন্ন দুই ফরম্যাটের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যেখানে চোটের কারণে নেই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ। এ সফরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
তবে এই সফরের দল ঘোষণার পর থেকে আলোচনা শুধু এক ক্রিকেটারের জায়গা পাওয়াকে কেন্দ্র করেই। আর তিনি হচ্ছে সৌম্য সরকার। চলতি বছর ইমার্জিং এশিয়া কাপে খেলেছিলেন সৌম্য তবে বলার মতো কোনো পারফরম্যান্স করতে পারেননি। তারপরও বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে নেওয়া হয়েছিল তাকে। দুই ম্যাচে খেললেও হতাশ করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তারপরও কেনো আবার তাকে স্কোয়াডে এই প্রশ্নই সবার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
তবে এ প্রসঙ্গে অনেকের ধারণা সৌম্যকে এই সফরে দলে আনার পেছনে কলকাঠি নাড়িয়েছেন প্রধান কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে। অবশ্য এই বিষয়টি টাইগার নির্বাচক হাবিবুল বাশার এড়িয়ে গিয়ে গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সৌম্যকে দলে ভেড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, কোচের ইনপুট নিয়ে খুব বেশি আলাপ হওয়া উচিত নয়। দল যখন হয়, সবার ইনপুট নিয়েই করা হয়। সবাই একমত যখন হয়, তখনই দলটা গড়া হয়। আমাদেরও কিছু পছন্দ থাকে, কোচেরও থাকে। এমন নয় যে একজন ক্রিকেটার শুধু একজনের পছন্দেই দলে আসে।’
এ সময় সৌম্যকে নেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এই নির্বাচক আরো বলেন, ‘আপনারা দেখেন এবার আসলে আমাদের কিছু ফোর্সফুল পরিবর্তন করতে হয়েছে। মাহমুদউল্লাহ নেই, সাকিব আল হাসানকে পাওয়া যাচ্ছে না, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সংখ্যা আমাদের কমে গেছে। নিউজিল্যান্ড সফর আমাদের জন্য সবসময়ই একটু কঠিন হয়। সেখানে আমাদের সাধারণত অনেক ধুঁকতে হয়। সেখানে নতুন কাউকে দেখার থেকে আমাদের মনে হয়েছে, এমন কাউকে নেই যে এই কন্ডিশনে আগে খেলেছে। পাশাপাশি ওর একটু অলরাউন্ড সামর্থ্যও আছে। এই ভাবনা থেকে তাকে নেওয়া হয়েছে। আর এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খুব ভালো পারফরম যে করেছে, তা নয়। তবে ৪৮ গড় খুব খারাপ নয়, যদিও এর কাছ থেকে আরো বেশি কিছু আশা করার থাকে। চিন্তা করা হয়েছে যে, যেহেতু এই কন্ডিশনে আগে খেলেছে ও পারফরম করেছে, অলরাউন্ড সামর্থ্যও আছে, সব মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে সদ্যসমাপ্ত জাতীয় লিগে ১১ ইনিংস খেলেও ৪৮.৪৪ গড়ে ৪৩৬ রান করেন সৌম্য। এর মধ্যে নেই কোনো সেঞ্চুরি। তবে এই টুর্নামেন্টে তার বোলিং পারফরম্যান্স দারুণ ছিল। ৬ ম্যাচে শিকার করেন ১৭ উইকেট। কিন্তু এই পারফরম্যান্সে সরাসরি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জায়গা পাওয়াটা নানান প্রশ্নের জন্ম দেয়। এছাড়া এ সফরে নেই কোনো টেস্ট ম্যাচও। তাতে বলা যায় জাতীয় দলে যুক্ত হতে হলে নিজেকে যোগ্যতা দেখাতে হয় না অন্যদের খারাপ পারফরম্যান্সের সুযোগেই দলে জায়গা নিশ্চিত করা যায়। তবে তা মানছেন না নির্বাচক।
এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কিছু সময় যদি কেউ পারফরম করে, তাহলে তাকে কিন্তু দলে নেওয়া হয়। তবে আমরা যখন দল করি, কিছু ব্যাপার বিবেচনায় আনি অবশ্যই। শুধু পারফরম্যান্স নয়, পারিপার্শ্বিকতা দেখতে হয় আমাদের, অতীত ও ভবিষ্যত্ ভাবতে হয়। সেক্ষেত্রে যারা একটু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, তারা মোটামুটি পারফরম করলে অন্যদের সুযোগ বেশি থাকে। কারণ আমাদের কাছে মনে হয়, একদম নতুন কাউক নেওয়ার চেয়ে যাও একটু অভিজ্ঞতা আছে সৌম্য কিন্তু একদমই খারাপ ফর্মে নেই। এবার প্রথম শ্রেণিতে ভালোই ব্যাটিং করেছেন।’
তবে এই নির্বাচক নিউজিল্যান্ডে সৌম্যর যেই অভিজ্ঞতার কথা বারবার বলছিলেন তাও কিন্তু আশানুরূপ কিছু ছিল না। ২০২১ সালে সবশেষ বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিল সেখানে সৌম্য সরকার দলে ছিলেন। সেই সফরে তিন ম্যাচ ওয়ানডের তিনটিতেই তিনি ছিলেন মূল দলে তবে হতাশ করেছে তার ব্যাট। ০, ৩২, ১ যথাক্রমে তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে মোট ৩৩ রান। এছাড়া বল হাতে পায় মাত্র এক উইকেট। তা দেখলে বলা যায় ঐ কন্ডিশনেও ব্যর্থ সৌম্য। তাহলে কি সৌম্যকে দলে বাধ্য হয়েই নেওয়া হয়েছে? জবাবে বাশার বলেন, ‘যেটা বললাম, কিছু ফোর্সফুল পরিবর্তন আমাদের করতে হয়েছে। মাহমুদউল্লাহ নেই, সাকিব নেই। দুজন সিনিয়র ক্রিকেটার নেই। অন্য কোনো বিকল্পে তাকাতে হলে আমাদের নতুন কাউকে দেখতে হতো, যে ঐ কন্ডিশনে কখনো খেলেনি। এটাই আসলে মূল কারণ।’
