শিশুর সুরক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স ফেলোশিপ পেলেন দুই সাংবাদিক

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:০১

শিশুর সুরক্ষায় সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পাশাপাশি কাজ করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সময়ের সঙ্গে সাংবাদিকতার ধরনও বদলেছে। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রকাশ পায়।  তাই সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নগর সাংবাদিকতাকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বক্তব্য দি‌চ্ছেন প্রাক্তন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ছ‌বি: আব্দুল গ‌নি

তিনি জানান , বর্তমান সময়ে সাইবার বুলিং বা সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন অনেক নারী ও শিশু। কিন্তু তাদের বেশির ভাগের খবরই গণমাধ্যমে আসে না। এমনকি তারা প্রতিকারের জন্য অভিযোগও করেন না। এক্ষেত্রে মাত্র চার শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। শিশুর সুরক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুর সুরক্ষাবিষয়ক ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুই সাংবাদিককে ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।

বক্তব্য দি‌চ্ছেন দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। ছ‌বি: আব্দুল গ‌নি

 গতকাল শনিবার ডেইলি স্টার ভবনে সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের চেয়ারপারসন এবং দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ও আজকের  পত্রিকা সম্পাদক অধ্যাপক গোলাম রহমান ও সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড চাইল্ড রাইটস গভার্নেন্সের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। জুরি বোর্ডের পক্ষে ছিলেন গবেষক আফসান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা, সঞ্চালনা করেন পরিচালক জাহিদুল ইসলাম।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, শিশুরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। যদিও ১৪ বছরের পরই ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট করার কথা বলা হয়, কিন্তু অনেক ছয় বছর থেকে সাত বছর, আট বছর থেকে নয় বছরের শিশুও ফেসবুক চালায়। শিশুরা তার অ্যাকাউন্ট নিরাপদে রাখতে জানে না। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যম সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। টু স্টেপ ভেরিফিকেশন যদি থাকে, তবে হয়রানি অনেক কমে আসবে। আগামী প্রজন্ম যদি সুরক্ষা না পায়, তাহলে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে না।

বক্তব্য দি‌চ্ছেন গ‌বেষক আফসান চৌধুরী। ছ‌বি: আব্দুল গ‌নি

অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকতায় শিশুদের মনোবিকাশ, কল্যাণ, তাদের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে। শহুরে জীবনের শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক সুযোগসুবিধা আমরা দিতে পারি না। এটা সবসময় অর্থনৈতিক কারণে নয়। এর পেছনে মানসিক ও অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে। শিশুদের নগরে বড় করছি, কিন্তু নাগরিক সুবিধা কতটা আছে, সেটাও দেখতে হবে। মফস্বলেও একই সমস্যা বিদ্যমান। আমরা পশ্চিমা সাংবাদিকতার অনুসরণ করি বলে, অনেক বেশি নেতিবাচক সংবাদকে গণমাধ্যমে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের নিজস্ব চিন্তা, চেতনায় জীবনমুখী সাংবাদিকতা করতে হবে।’

বক্তব্য দিচ্ছেন সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ও আজকের পত্রিকা সম্পাদক অধ্যাপক গোলাম রহমান। ছবি: আব্দুল গনি

তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘নিজের নিকট আত্মীয় দ্বারা শিশু যৌন নির্যাতনের শিকারবিষয়ক গবেষণা করে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স। তখন মানুষ অনেক বিষয় জানতে পারে। আমাদের রক্ষণশীল সমাজ অনেক কিছুই সহজে গ্রহণ করতে পারে না। পাঠ্যসূচিতে যৌন-প্রজনন শিক্ষা যুক্ত করতে আমাদের দীর্ঘ সময় লেগে যায়। সাংবাদিকরা শিশুর সুরক্ষায় কাজ করে সমাজের রক্ষণশীলতাকে ভাঙতে ভূমিকা রাখবেন।’

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাদের সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত গণমাধ্যম বিষয়সচেতনতা বাড়াতে হবে। যে কোনো ঘটনা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি সাংবাদিকদের আরও দক্ষ ও সচেতন করতে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বিনিয়োগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন। আফসান চৌধুরী বলেন, দেশে যত গণমাধ্যম আছে তা ৫০ শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছে না। ২৫ শতাংশ মানুষ পত্রিকা পড়ে। নগর সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি মনে করেন, নতুন গণমাধ্যমনীতি প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট মিডিয়া থেকে দৈনিক কালবেলার সিনিয়র রিপোর্টার রিতা ভৌমিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার শারফুল আলমকে ৩০ হাজার টাকা মূল্যমানের ফেলোশিপ এবং উভয় মাধ্যমের ২২ জন সাংবাদিককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম