ক্ষমা চেয়ে চিঠি

সালাহউদ্দিন জানালেন অনুশীলনে ফিরবে তপু-জিকো

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:০৭

মাদককাণ্ডে অভিযুক্ত বসুন্ধরা কিংসের পাঁচ ফুটবলারের মধ্যে শেখ মোরসালিন এবং রিমন হোসেন জরিমানা দিয়ে ক্যাম্পে ঢুকেছেন। ডিফেন্ডার তপু বর্মন এবং গোলরক্ষক জিকো দলে ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের সঙ্গে পালাক্রমে দুই জনেই দেখা করেছেন।

কক্সবাজার চকরিয়ায় অবস্থানরত গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো চার দিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন সালাহউদ্দিনের ডাকে। বাফুফে ভবনে গিয়ে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। সালাহউদ্দিন বললেন, ‘জিকো এসেছিল। কথা হয়েছে। ওরা অনুশীলনে ফিরবে।’ কবে ফিরবে? সালাহউদ্দিনের জবাব, ‘দেখি, কয়েক দিনের মধ্যেই ফিরবে। কথা হয়েছে। অনুশীলনে যাবে। সমস্যা নাই।’

বাফুফে সভাপতি এই ফুটবলাদের ক্যাম্পে ফেরানোর চেষ্টা করছেন। আলোচনা করেছেন। ধমকও দিয়েছেন। ফুটবলাররা শৃঙ্খলা না মেনে চললে ভালো খেলোয়াড় হওয়া যায় না। নিজের জীবনের অনেক ত্যাগের কথাও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তপু বর্মন এবং জিকো বসুন্ধরা কিংসের কাছে পুনরায় চিঠি দিয়েছে। এবার আরো একবার ক্ষমা চেয়েছেন। ভুল স্বীকার করে তারা ক্লাব অনুশীলনে ফিরতে চান। কিছু দিন আগে জিকো ইত্তেফাককে জানিয়েছিলেন তিনি বন্ধুদের কথায় একটা ভুল করে ছিলেন। এখন থেকে পরিত্রাণ চান। জিকো বলেছিলেন এই ভুলে অনেক বড় শিক্ষা হয়েছে।

ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসান বলেন, ‘ওরা দুজনই চিঠি দিয়েছে। আমরা পেয়েছি।’ কী বলেছেন চিঠিতে, এমন প্রশ্নে গতকাল ইমরুল হাসান জানিয়েছেন কী আর বলবে ক্ষমা চেয়েছে। তারা ভুল বুঝতে পেরেছে, বলেছে আমরা অপরাধ করেছি, এসব কথা বলেছে।’ ক্লাব কী চিন্তা করছে দুজনের ব্যাপারে? ইমরুল হাসান বলেন, ‘দেখি আমরা চিঠি পেয়েছি। বসব আলোচনা করব।’

একদিকে ক্লাবে খেলতে পারছেন না তপু এবং জিকো। অন্যদিকে জাতীয় দলেও তারা আসতে পারছিলেন না। ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমরা ক্লাব থেকে শাস্তি দিয়েছি। ওরা যদি জাতীয় দলে খেলতে পারে খেলবে। আমি তো বলেছি আপনারা (বাফুফে) নিলে নিতে পারবেন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। ওরা ক্লাবে সাসপেণ্ড হয়েছে। জাতীয় দল থেকে নয়। বাফুফে কেন জাতীয় দলে নেয়নি সেটা তাদের ব্যাপার। আমরা এটা নিয়ে আপত্তি করিনি।’ বাফুফে এবং বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে কথা বলে দুই পতক্ষ্য হতেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে তপু এবং জিকোর জন্য ক্লাবের দরজা খুলছে এবং জাতীয় দলের দরজাও খুলছে। 

গত ১৯ সেপ্টেম্বরে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের খেলায় মালদ্বীপের মালেতে স্থানীয় মাজিয়া স্পোর্টস দলের বিপক্ষে ৩-১ গোলে দেশে ফিরলে ঢাকায় বিমানবন্দরে পাঁচ ফুটবলারের থেকে শতাধিক বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। ভাগ্যভালো জাতীয় দলের খেলোয়াড় পরিচয় আর কিংসের দৌড়ঝাঁপে ছাড়া পায় ফুটবলাররা। সেখান থেকে ছাড়া পেলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে শাস্তি দেয়। তপু বর্মনের শাস্তি ছিল ১ লাখ টাকা এবং ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলতে পারবে না। জিকোর শাস্তির মেয়াদ ৩১ মার্চ পর্যন্ত। কঠোর অবস্থানে ছিল কিংস। সেখান থেকে সরে আসছে।

ইত্তেফাক/এএম