নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)- এর ৫ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা-জেন্ডার সমতা অর্জন এবং মেয়ে ও নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়টিকে সামনে রেখে একটি ক্যারিয়ার কার্নিভ্যালের আয়োজন করা হয়। কার্নিভ্যালের একটি সেশনে একজন ট্রান্সনারী ও ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী 'হোচিমিন ইসলাম'-কে বক্তা হিসেবে রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) একটি সেশনে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের একটি মৌলবাদী গোষ্ঠীর আপত্তির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হোচিমিন ইসলামের সেশনটি বাতিল করে।
শিক্ষার্থীদের মৌলবাদী মননে গড়ে তোলা এবং সেই চিন্তাকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রশ্রয় দেওয়ার ঘটনায় “উইম্যান্স উইন্ডোস” তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, একটি স্বনামধন্য প্রথিতযশা বেসরকারি বিদ্যায়ায়তন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষার্থী তৈরি করা হয় বলেই জাতি জানে ও মানে। কিন্তু প্রেক্ষিত বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের কুপমন্ডুকতা ও বৈষম্যময় আচরণ নিন্দনীয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জনসাধারণের বিভিন্ন মতামতের প্রতি যে সম্মানের কথা বলছে, তা একজন পূর্ব নির্ধারিত বক্তার মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। লৈঙ্গিক বৈচিত্র্য-যৌন অভিযোজন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও রাষ্ট্রে বিরাজমান বৈষম্যমূলক সংস্কৃতির কারণে ট্রান্সজেন্ডারসহ সমগ্র বৈচিত্রের বিষয়ে কারো মতপার্থক্য থাকতে পারে, হোচিমিন ইসলাম-এর অবস্থান কিংবা তার কোনো বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা-সমালোচনা হতে পারতো, ভিন্নমত পোষণকারীরা তাদের ভিন্নমত যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন। কিন্তু বক্তা একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী হওয়ার কারণে তার বক্তব্য প্রদানের আগেই বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করা উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিচায়ক নয়। প্রচলিত সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের দোহাই দিয়ে যারা ভিন্ন মতাবলম্বীর বক্তব্য নিষিদ্ধ করেন, তারা কখনোই পরমত সহিষ্ণুতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন না। কারণ বাংলাদেশ একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং সংবিধান অনুযায়ী দেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার। সুতরাং “উইম্যান্স উইন্ডোস” মনে করে, মানুষের লৈঙ্গিক পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে তার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা রয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর ৪ ধারায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, জন্মস্থান বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ একজন ট্রান্সজেন্ডার বক্তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। এরফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির নৈতিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। “উইম্যান্স উইন্ডোস” এই মর্মে বিবৃতি দেয় যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মৌলবাদ এবং প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে অপসারণ করতে হবে এবং সকলের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
