স্বাক্ষর গরমিলে কপাল পুড়ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের

  • মনোনয়ন বাতিলের ৪২৩ জনই স্বতন্ত্র, রাজনৈতিক দলের ৩০৮ জন
  • প্রার্থিতা ফিরে পেতে প্রথম দিন ৪৩ জনের আপিল, আবেদন করেছেন মাহী বি চৌধুরী ও  নৌকার প্রার্থী নসিরুল, আপিলের নিয়মকানুন সরেজমিন জেনেছেন মেজর আখতার, ডলি সায়ন্তনীসহ অনেকে
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:০০

এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর গরমিলের কারণে এবার কপাল পুড়ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। প্রার্থিতা বাতিল হওয়া ৭৩১জনের মধ্যে ৪২৩জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রার্থিতা ফিরে পেতে প্রথমদিন যে ৪৩জন আবেদন করেছেন তার মধ্যে ৩০জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ৩০জনের মধ্যে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর গরমিলের কারণে ২৬জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরী ও নৌকার প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম খান আপিল করেছেন। এছাড়া অনেক প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আপিল সংক্রান্ত নিয়ম কানুন সরেজমিন জেনে এসেছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বিএনএমের কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনীও রয়েছেন।

এদিকে ঝালকাঠি-১ আসনে আলোচিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাহান ওমর দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বলেন, কেন সাক্ষাত করতে এসেছি তা বলবো কেন? সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরায় থাবা মারেন তিনি।

গত সোমবার নিজের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে কাঁঠালিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা করেন সদ্য বিএনপি ছাড়া এই নেতা। সেখানে তার কোমরে পিস্তল দেখা গেছে। আর তার পাশে বন্দুক হাতে বসে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল মিয়াজী। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। বুধবারের (আজ) মধ্যে এর জবাব দেওয়ার কথা। তার আগেই সিইসির সঙ্গে দেখা করতে আসেন শাহজাহান ওমর। ওই আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আইন জানেন? কে বলল আমি আইন ভেঙ্গেছি?’ পরে শাহজাহান ওমর কী বিষয়ে আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন-এ সংক্রান্ত বিষয়ে জনতে চাইলে সিইসি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘ওটা আমার বিষয় না’।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া দুই হাজার ৭১৬ প্রার্থীর মধ্যে ৭৪৭ জনই ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এদের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েন ৪২৩ জন। প্রার্থিতা ফিরে পেতে রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম দিনে আপিল করেছেন মনোনয়ন বাতিল হওয়া ৪৩জন প্রার্থী।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়ার একাংশ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী গতকাল নির্বাচন ভবনে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ক্রেডিট কার্ডে ছোট একটা ঝামেলা ছিল।  বিষয়টি  আমার নলেজে ছিল না। ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া টাকা পরিশোধ করে ইসিতে এসেছি। আমি আশা করছি, আপিলে আমি আমার প্রার্থিতা ফিরে পাবো।’ 

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামানকেও গতকাল নির্বাচন ভবনে দেখা যায়। কিশোরগঞ্জ-২ আসনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ঋণ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তবে গতকাল তিনি আপিল করেননি। বিকেলে নির্বাচন ভবনে আপিল শেষে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। তবে কার ষড়যন্ত্রের শিকার তা বলবো না।’

ইসি সূত্র জানায়, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের জন্য নির্বাচন কমিশনে ১০টি অঞ্চলের ১০টি বুথ স্থাপন করে আপিল আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। যা ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। আপিল শুনানি হবে ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওইসময় সিইসিসহ পুরো কমিশন বসে আপিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল গতকাল বিকেলে আপিলের বুথগুলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কর্মকর্তারা চমৎকারভাবে আপিল আবেদনগুলো গ্রহণ করছেন। এগুলো আপিল শুনানিতে দাখিল করা হবে। পুরো কমিশন বসে আপিলগুলো শুনব। শুনে আমরা সিদ্ধান্ত দেব।’ 

৭৫ প্রার্থীকে শোকজ: আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে প্রার্থীদের শোকজ করা অব্যাহত রেখেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি। সম্প্রতি শোডাউনসহ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদান, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংবর্ধনা গ্রহণ, মটর শোভাযাত্রা, সভা-সমাবেশে অস্ত্র প্রদর্শন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হুমকির অভিযোগে গতকাল পর্যন্ত অন্তত ৭৫জন প্রার্থীকে শোকজ করে অনুসন্ধান কমিটি। এদিকে আচরণবিধি ভঙ্গ করায় প্রার্থীদের একের পর এক শোকজ করা হলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমি যতটুকু বলার ততটুকু বলেছি। এর বাইরে আমি কিছু বলব না।’

ইত্তেফাক/এমএএম