বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গার পাড় দখল করে লোহার ব্যবসা

ইজারাদারদের বিরুদ্ধেই নদী দখলের অভিযোগ

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:০৫

বারবার উচ্ছেদের পরও থামছে না বুড়িগঙ্গা নদী দখল। ঘাটের ইজারা নিয়েও পাড় দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। পোস্তগোলা শ্মশানঘাট বুড়িগঙ্গার ফোরশোর এলাকায় জাহাজের যন্ত্রাংশের ব্যবসা করা হচ্ছে। এছাড়া গড়ে তোলা হয়েছে অফিসও। আগে বালুর ব্যবসা থাকলেও সেটি এখন রূপান্তরিত হয়েছে লোহার ব্যবসায়।

সম্প্রতি দেখা যায়, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসহ বুড়িগঙ্গার ফোরশোর এলাকায় জাহাজের যন্ত্রাংশ ফেলে রাখা হয়েছে। এসব ঘিরেই শ্রমিকদের ব্যস্ততা। নদীর ফোরশোরের মধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে ইজারাদারের অফিস। বিভিন্ন জায়গা থেকে জাহাজের যন্ত্রাংশ নিয়ে আসছে ট্রলার। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঘাটটি ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে প্রভাবশালী ইবরাহিম আহাম্মেদ রিপন ব্যবহার করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ঘাটটিতে একসময় অবৈধ বালুর ব্যবসা করতেন। বর্তমানে চলছে জাহাজের যন্ত্রাংশ ভাঙার কাজ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটটি ইবরাহিম আহাম্মেদ রিপন কখনো ভাইয়ের নামে, কখনো স্টাফের নামে ইজারা নেন। ইজারার শর্ত ভেঙে ব্যবহার করেন অন্য কাজে। কাগজে-কলমে ঘাটটির বর্তমান ইজারাদার মো. রেজাউল ইসলাম, যিনি রিপনেরই অফিসের স্টাফ বলে জানা যায়। 

বিআইডব্লিউটিএর নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ঘাটটির পয়েন্ট হিসেবে লেখা আছে মিল ব্যারাক থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত শুল্ক আদায় ও লেবার হ্যান্ডলিং পয়েন্ট। আরসিন গেট থেকে মিরেরবাগ ও মিল ব্যারাক থেকে চর মীরেরবাগ পয়েন্ট ফেরিঘাট। এর মধ্যে মিল ব্যারাকের পশ্চিম সীমানা, অর্থাত্ গেন্ডারিয়া খালের পূর্ব দিক শ্মশানঘাট পর্যন্ত এলাকায় সব ধরনের নৌযানের বার্থিং চার্জসহ মালামাল পরিবহনের শুল্ক ও লেবার হ্যান্ডলিং চার্জ এবং ফেরিঘাটে খেয়া পারাপারে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের শুল্ক আদায় করার দায়িত্ব ইজারাদারের।

কিন্তু ইজারা আদায়ের পাশাপাশি নদীর পাড় দখল করে চলছে ব্যবসা। বারবার উচ্ছেদ করলেও সেটি আগের রূপে ফিরে যায়। নদী দখল ঠেকাতে এর আগেও উচ্ছেদ অভিযানে গেলে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১০ সালে ঐ এলাকায় প্রথম অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চালায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কয়েক দিন পর আবার বেদখল হয়ে যায় ঘাটটি। দীর্ঘ ৯ বছর পর ২০১৯ সালে সরকারের সংস্থাটি নতুন করে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। দখলমুক্ত করে বুড়িগঙ্গার সাত বিঘা জমি। এবারও কয়েক দিনের মাথায় তা আবার বেদখল হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী রক্ষার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের ম্যানেজ করেই বহাল তবিয়তে আছেন দখলদাররা।

এ বিষয়ে ইবরাহিম আহাম্মেদ রিপন বলেন, ‘এখানে লোহার ব্যবসা আছে আমাদের। তবে নদীর পাড় দখল করে না। ইজারার হিসাব-নিকাশ ও অন্যান্য কাজের জন্য একটি অফিস রয়েছে এখানে।’

ইত্তেফাক/এসটিএম