সিনেমা কখনো জীবনের উপলব্ধি বলে, কখনো বা এটি নিছক বিনোদন। তবে দুটি বিষয়ই দর্শককে বয়সভেদে নানাভাবেই প্রভাবিত করে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়মে প্রতিটি সিনেমা যেমন সেন্সর বোর্ড পেরিয়ে আসতে হয় তেমনি তার সঙ্গে যুক্ত হয় বয়সসীমা। মানে ঠিক কোন বয়সে আপনি কোন সিনেমাটি দেখতে পারবেন সেটি ঠিক করে দেওয়া।
তাই বলে সব সিনেমা সেন্সর বোর্ড পেরিয়ে গেলেও যে আটকে যায় না তেমন কিন্তু একদমই নয়। বিশ্বের এমন অনেক সিনেমা রয়েছে যা মুক্তির পর দর্শকের ওপর সেটির নেতিবাচক প্রভাবকে বিবেচনা করে অনেক সিনেমা নিষিদ্ধের তালিকায় যোগ হয়েছে। এই লেখা মূলত তেমনই কয়েকটি সিনেমা নিয়ে। ঠিক কেন, কবে এবং কী কারণে সেগুলোর প্রদর্শনী বাতিল হয়েছে সেগুলোই জানাব আপনাদের।
ক্লক ওয়ার্ক অরেঞ্জ
বলা হয়ে থাকে হলিউডের স্টুডিওতন্ত্রের মধ্যে থেকেও সবচেয়ে স্বাধীনভাবে সৃষ্টিশীল কাজ করার চেষ্টা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক। যাকে সর্বকালের সর্বাপেক্ষা সৃজনশীল ও প্রভাবশালী একজন পরিচালক হিসাবে গণ্য করা হয়। আর তার সিনেমা নাকি ২৭ বছর নিষিদ্ধ ছিল গ্রেট ব্রিটেনে। সিনেমাটির নাম ‘ক্লক ওয়ার্ক অরেঞ্জ’। অত্যধিক মারামারি, পাশবিক ধর্ষণের দৃশ্য থাকায় সিনেমাটিকে কিছুতেই গ্রেট ব্রিটেনে প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমাটি ব্যাপকভাবে ব্যবসাসফল হয়।
স্যালো অর দ্য হান্ড্রেড টোয়েন্টি ডেজ অব সডম
একটি সিনেমা যে নিজের মৃত্যুর কারণ হতে পারে সেটির উদাহরণ ‘স্যালো অর দ্য হান্ড্রেড টোয়েন্টি ডেজ অব সডম’। ইতালিয়ান পরিচালক পিয়ের পাওলো পাসোলিনিকে সিনেমাটির জন্য গাড়ি চাপা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। যিনি ছিলেন একাধারে ইতালির বিখ্যাত কবি, লেখক, ঔপন্যাসিক, পরিচালক, দার্শনিক, সাংবাদিক।
১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি দেখা যায় চার দুষ্কৃতি অপহরণ করে শিশু ও মহিলাদের। এরপর চলে এমন অত্যাচার যা দেখে গা শিউড়ে ওঠে। আর এ কারণে সিনেমাটি ইরান, সিঙ্গাপুরসহ পাঁচটি দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
দ্য হিউম্যান সেন্টিপেড
এই ডাচ সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০৯ সালে। পরবর্তী সময়ে দুটো সিক্যুয়ালও নির্মাণ হয়। তবে সবগুলোই মাত্র কয়েকটি দেশ ছাড়া পুরো বিশ্বে নিষিদ্ধ হয়। সমালোচকরা বলেন সিনেমাটি শুধুমাত্র নির্মাতা টম সিক্সের ‘অসুস্থ’ চিন্তার ফসল। গল্পে দেখা যায়, এক পাগলাটে বিজ্ঞানী কিডন্যাপ করেন তিনজন আমেরিকান পর্যটককে আর সার্জারির মাধ্যমে তাদের জুড়ে দেন একসঙ্গে, যেখানে দুটি মানুষের সংযোগ একজনের মুখ থেকে অন্যজনের পায়ুপথে। গল্পের নিষ্ঠুরতা আর অসুস্থ প্লটের জন্য ব্যাপক সমালোচিত ‘দ্য হিউম্যান সেন্টিপেড’।
ক্যানিবাল হলোকাস্ট
ক্যানিবালিজম, গণহত্যা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমা এটি। ১৯৮০ সালে মুক্তি পাওয়া ইতালিয়ান এই সিনেমার পরিচালক রুগেরো ডেওডাতো। বিশ্বের ৪০ দেশে সিনেমাটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
দ্য বার্থ অব এ ন্যাশন
১৯১৫ সালে মুক্তি পাওয়া নির্বাক সিনেমা এটি। মার্কিন এই সিনেমার পরিচালক ডি ডাব্লিউ গ্রিফিত। কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের আক্রমণ করায় মুক্তির পর পরই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় সিনেমাটি।
