মাদারীপুরের শিবচরের ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত অদম্য মেধাবী সাইমা জামানের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। এসময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (৯ ডিসেম্বর) পদ্মা তীরবর্তী চরাঞ্চলের মল্লিককান্দি গ্রামে সাইমাদের বাড়িতে যান চিফ হুইপ। এসময় তিনি ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য সাইমা, তার বিধবা চাচীর মিরজান বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি জানান, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সাইমা জামানের সাফল্য গাঁথা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ পেলে—বিষয়টি বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানার নজরে আসে। তিনি চিফ হুইপকে সাইমার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।
ফলাফল প্রকাশের পরই চিফ হুইপ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাইমাদের বাড়িতে মিষ্টি পাঠান। এর আগেও চীফ হুইপ এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত অসংখ্য দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে বাড়ি মেরামত, বৃত্তি ও লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শিবচর উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী বন্দরখোলার ইউনিয়নের মল্লিককান্দি গ্রামের মরহুম পান্নু মল্লিকের মেয়ে সাইমা জামান চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করে। সৌদিপ্রবাসী বাবা পান্নু ২০০৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তখন সাইমা ও তার জমজ ভাই সিয়ামের বয়স ৩ বছর। এর দুই মাস পরই একমাত্র চাচা মিনু মল্লিকও মারা যায়। সাইমার বয়স যখন ৫ বছর, তখন মা চলে যায় অন্যের ঘরে।
দাদা মঞ্জু মল্লিক ও বিধবা চাচী মিরজান বেগম সাইমাদের নিয়ে শুরু করে নতুন জীবন সংগ্রাম। চার বছর আগে মারা যায় বৃদ্ধ দাদাও। তবু থেমে থাকে না মিরজান বেগম। নিজের সন্তানের মতোই বড় করতে থাকেন সাইমাদেরও।
সাইমা রাজারচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৮৯ পায়। এরপর ভর্তি হয় উপজেলার দত্তপাড়ার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজে। সাইমা গ্রামের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মাসিক ৩০০ টাকা করে পড়িয়ে নিজের পড়ার খরচ ও কলেজে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতো।
১০ বছর আগে দাদার রেখে যাওয়া ইটের গাঁথুনির বাড়ির দেয়ালে এখনও পলেস্তারা দিতে পারেনি সাইমারা। বিষয়টি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূর-ই-আলম চৌধুরীর নজরে আসে। পরে চিফ হুইপের নির্দেশে প্রতিনিধিরা সাইমার বাড়িতে মিষ্টি ও উপহারসামগ্রী নিয়ে যান। সাইমার ঘর মেরামতের জন্য টিন ও নগদ অর্থ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিবুল ইসলাম।
অদম্য সাইমা বলেন, ‘চিফ হুইপ স্যার আমার বাসায় আসবেন—এটা কখনও ভাবিনি। আমি ও আমার পরিবার চিফ হুইপ স্যারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমার লেখাপড়া যেখানে অনিশ্চিত ছিল, সেখানে আর কোন ভয় নেই।’
চাচী মিরজান বেগম বলেন, ‘এর চাইতে ভাল আর কি হতে পারে। আজকের দিনটা আমাদের জন্য গর্বের।’
চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘জিপিএ-৫ অনেকেই পায়। কিন্তু সাইমার প্রাপ্তিটা অন্যরকম। ওর বাবাসহ ঘনিষ্ঠজনরা মারা যাওয়ার পরও ওর চাচীর চেষ্টায়—সে এই অর্জন করেছে। সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি দেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা ওর পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমাকে বলেছেন। তাই আমি অদম্য মেধাবী সাইমা ও ওর চাচীকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি। আমরা সবসময় দরিদ্র মেধাবীদের পাশে থাকি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।’
