বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

সেন্টমার্টিন সৈকতের বেলাভূমিতে উঠে ১১৬টি ডিম ছাড়লো কাছিম

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩:৫০

দেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ টেকনাফের সেন্টমার্টিন সৈকতের বেলাভূমিতে উঠে ১১৬টি ডিম ছেড়েছে একটি মা কাছিম। ডিম ছাড়ার আধা ঘণ্টা কাছিমটি পুনরায় সাগরে নেমে গেছে। 

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম পাড়ার সৈকতে এমন দৃশ্যটি চোখে পড়েছে স্থানীয়দের। যা পূর্বের মতো ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দ্বীপে কাজকরা বীচ কর্মীদের সুপারভাইজার জয়নাল উদ্দিন।

জয়নাল জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বীপের পশ্চিম সমুদ্র সৈকতে হঠাৎ সাগর থেকে একটি মা কাছিম ওঠে আসে। সেটি বেলাভূমিতে গর্ত করে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে একে একে ১১৬টি ডিম ছাড়ে। ডিম দেয়া কাছিমটির ওজন প্রায় ৩০ কেজি হবে বলে ধারণা প্রত্যক্ষদর্শীদের। 

তিনি আরও জানান, ডিম ছাড়ার পর কাছিমটি পুনরায় সাগরে নেমে যায়। খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মীসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাছিমটির নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। দ্রুত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা না গেলে কুকুরের আক্রমণ শিকার হতো কাছিমটি। সৈকতে বিভিন্ন মানুষের আনা-ঘোনা থাকায় কুকুর এদিকে আসতে সাহস করেনি হয়তো। পরে পরিবেশেরকর্মীরা ডিমগুলো তাদের হ্যাচরীতে নিয়ে যায়। এটি পূর্ব থেকে ঘটে আসা দৃশ্য হলেও স্থানীয় ও পর্যটকরা ডিমগুলো দেখার জন্য সেখানে ভিড় জমায়।

সেন্টমার্টিনে কাজ করা পরিবেশে অধিদপ্তরের অফিস সহকারী আবদুল আজিজ জানান, শনিবার রাতে সৈকতের বেলাভূমি থেকে কাছিমের ১১৬টি ডিম আমাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মূলত দ্বীপে পর্যটকদের চাপসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে মা কাছিম অনেকদিন তীরে আসা বন্ধ করেছে। কিন্তু এখন মানুষের উপস্থিতি একটু কম হওয়ায় শনিবার আবারও মা কাছিম তীরে এসে ডিম দিয়ে গেলো। কাছিমের ডিমগুলো পরিবেশ অধিদপ্তরের মেরিন পার্কে নিয়ে রাখা হয়েছে। প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো ফোটানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, দ্বীপের পশ্চিম সৈকতে একটি মা কাছিম ১১৬টি ডিম ছেড়েছে বলে খবর পেয়েছি। এটা প্রকৃতির জন্য শুভ সংবাদ। দ্বীপে প্রাণীদের সহায়ক পরিবেশ বিনষ্টের অভিযোগ উঠছে বার বার। এ কারণে কাছিম আর আগের মতো তীরে আসছে না বলেও অভিযোগ উঠে। কিন্তু শনিবার রাতে এ মা কাছিম আবার তীরে এসে ডিম দেয়ার মাধ্যমে পূর্বের পরিস্থিতি ফিরছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে আন্তরিক হয়ে কাজ করতে হবে বলে উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান মুজিব।

ইত্তেফাক/এমএএম