নৌকার মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলে ৫০ লাখ টাকা প্রতারণা, গ্রেফতার ৩

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৩০

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দেশব্যাপী সক্রিয় হয়। এর ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে প্রতারণা করেছে একটি চক্র। চক্রটি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের হোয়াটস অ্যাপে কল করে এনএসআই পরিচয় দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন তারা। 

এমন প্রতারণার জালে আটকে পড়ে ৫০ লাখ টাকা খুইয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দীপক কুমার রায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে ঐ প্রতারক চক্রের তিন জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে গ্রেফতারকৃত তিন জনের বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দীপক কুমার রায়ের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এসব কথা বলেন।

ভুক্তভোগী দীপক কুমার রায় পুলিশকে জানিয়েছেন, তার মোবাইল ফোনে একটি নম্বর থেকে প্রথমে মেসেজ আসে। ঐ মেসেজে লেখা ছিল, ‘আমি এনএসআইয়ের ডিডি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কাজ করি। আমি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নসংক্রান্ত ইস্যুতে কাজ করছি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমি কয়েক জনকে বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছি। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ইতিমধ্যে কয়েক জনের মনোনয়নের বিষয়টি আমি নিশ্চিত করেছি।’ মেসেজ আসার ১০/১৫ মিনিট পর তার মোবাইলের হোয়াটস অ্যাপে কল আসে ঐ নম্বর থেকে। কল করে এনএসআই পরিচয়ধারী প্রতারক বলেন, ‘আপনার মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তাই আপনাকে ৫০ লাখ টাকা নগদ দিতে হবে।’ এরপর ভুক্তভোগীকে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা পুতুল নামীয় একজন মহিলা কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয় চক্রের সদস্যরা। এভাবে প্রতারণার ফাঁদ পেতে গত ৩ সেপ্টেম্বর দীপক কুমার রায়ের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। 

পরে ২৬ নভেম্বর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে প্রকাশ হলে সেখানে তার নাম না থাকায় ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর ভুক্তভোগী দীপক কুমার রায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় গত শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যতে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। গ্র্রেফতারকৃত প্রতারকরা হলেন—নুরুল হাকিম (৩১), হাসানুল ইসলাম জিসান (২২) ও মো. হারুন অর রশিদ (২৯)। 

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। 

ইত্তেফাক/এমএএম