সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

এই আইনজীবী অন্যরকম

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:০১

হন্তদন্ত হয়ে এক মক্কেল নারী আসলেন উকিলের কক্ষে। চোখগুলো তার ক্রোধে ফেটে পড়ছে। অভিযোগ নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে। স্বামী অত্যাচারী—তাকে জেল খাটাতেই হবে। আইনজীবী মক্কেলের সমস্ত কথা শুনে শান্ত হয়ে বসতে বললেন। এরপর চুপিসারে মক্কেলের স্বামীকে ফোন করে জানালেন দ্রুত ফুল, চকলেট আর একটি আংটি নিয়ে তার চেম্বারে চলে আসতে। কথা অনুযায়ী স্বামী এসে সিনেমার মতো হাঁটু গেড়ে বসে স্ত্রীর আঙুলে আংটি পড়িয়ে ভালোবাসার কথা জানালেন। সঙ্গেসঙ্গে উপস্থিত দর্শক একযোগে করতালি দিয়ে উঠলো। ব্যাস—মামলা এখানেই ডিসমিস। স্বামী-স্ত্রী দুজনই হাঁসতে হাঁসতেই বাড়ি ফিরে গেলেন। এরকম অসংখ্য গল্পের নজির গড়েছেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমান খান। যিনি টি আর খান নামে অধিক সমাদৃত। 

আইনজীবী বলতেই আমাদের চোখে ভাসে কালো পোশাকে আবৃত ভাব গাম্ভীর্য এক চরিত্র। যিনি কথা বলেন কম, রঙ্গরসিকতা থেকে দুরেই থাকেন বৈকি। কিন্তু টি আর খান অন্যরকম। তিনি রসিক প্রিয় মানুষ। হাসতে ভালোবাসেন। হাস্য-রসিকতা, মজা-আনন্দের মধ্যেই জীবনকে উপভোগ করতে পছন্দ করেন। ব্যক্তিজীবন ছাপিয়ে কর্মজীবনে এসেও পড়েছে সেই ছাপ। টি আর খানের মতে কেবল ভালোবাসা দিয়েই পৃথিবীকে জয় করা সম্ভব। আর ভালোবাসার খোরাক হলো মনের উৎফুল্লতা।

টি আর খান ছোট থেকেই পরিবার, পড়শী, শিক্ষকদের নজর কেড়েছেন রসিকতা দিয়ে। দুষ্টামি করে মানুষকে বিরক্ত করতেও কম ছাড়েননি। বাবার ইচ্ছাতেই আইন পেশায় আসা। প্রথম দিকে এ জগতে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিলো। এরপর এখানেও নিজের সেই স্বভাবসুলভ হাসিঠাট্টার মাধ্যমে মন জুগিয়েছেন সহকর্মী ও কর্মকর্তাদের। ইত্তেফাক প্রজন্মের সঙ্গে আলাপচারিতায় টি আর খান বলেন, ‘কোর্ট-কাচারিতে মানুষ আসে পেরেশান হয়ে। আমি চেষ্টা করি একটু আনন্দ-বিনোদনের মাধ্যমে তাদেরকে উৎফুল্ল রাখাতে, সাহস যোগাতে। একবার এক লোক আসলেন তার ভাইয়ের মামলা নিয়ে। তার চেহারায় অত্যন্ত নাজেহাল অবস্থা। আমরাও ক্লান্ত ছিলাম সেদিন। তখন ক্লান্তি ভাঙানোর জন্য আমার সহকারীকে একটি গান ধরিয়ে দিতে বললাম। সেই গানের তালে তালে ফাইলপত্তর হাতে মক্কেল লোকটাকে নিয়েই একটু নাচতে শুরু করলাম। ব্যাপারটি আমার আরেক সহকারী ভিডিও করে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করলে সাড়া পড়ে যায়।’

কেবল রম্যরসিকতা নয়, দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সজাগ টি আর খান। ১৪ বছরে প্রায় বারো শ' মামলা লড়েছেন। আইনজীবীদের অধিকার রক্ষায় গড়ে তুলেছেন জাগ্রত আইনজীবী পরিষদ। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সভাপতি। এছাড়াও যুক্ত রয়েছেন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে। টি আর খান ঘুরতে ভীষণ ভালোবাসেন। ঘুরেছেন থাইল্যান্ড, নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। ভিন্ন সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে তার জানার আগ্রহ প্রবল। ভ্রমণের জন্য আইনজীবী সহকর্মীদের নিয়ে একটি টিমও গড়েছেন। 

টি আর খানের জন্ম ও বেড়ে উঠা চট্টগ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার হন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং-এ স্নাতকোত্তর করে চট্টগ্রাম আইন কলেজে ভর্তি হন। আইন পেশায় আসার আগে তিনি বেশ কিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠানেও চাকরি করেছেন।

ইত্তেফাক/এসটিএম