পিরোজপুর সদর উপজেলার ডুমরিতলা গ্রামে লালন ফকির (২৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার রাতে প্রতিপক্ষের হাতে লালন মারাত্মকভাবে আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন লালন। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় তার মৃত্যুর খবর পিরোজপুরে পৌঁছিলে শহরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। শনিবার শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর ঘটনায় লালন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নৌকা সমর্থকদের অভিযোগ রয়েছে। লালনকে শনিবার রাতে প্রতিপক্ষের ২০-২৫ জন লোক লালনের ওপর হামলা চালিয়ে তার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত-পা ও পাঁজরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে খুলনা ও পরে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু ঘটে। সোমবার রাতে শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে পিরোজপুর-১ আসনের নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, পিরোজপুর-১ আসনে বর্তমান এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। পক্ষান্তরে সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়পত্র দাখিল করেছেন। নিহত লালন ফকির একেএমএ আউয়ালের সমর্থক বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভ মিছিলসহ জেলা শহরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান জানান। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লালন হত্যার ঘটনায় জড়িতদের পুলিশ শনাক্ত করেছে। দায়ীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।
