মাদারীপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ নীরবের মা নুরজাহান বেগম পেলেন জয়িতা পদক। রোববার (৯ ডিসেম্বর) বেগম রোকেয়া দিবসে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
নুরজাহান বেগমের ৪ সন্তান, ৩ ছেলে ও মেয়ে সবাইকে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এবং ঘাত-প্রতিঘাত উপেক্ষা করে তিনি সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার বড় ছেলে হারুন অল কাইয়ুম সেনা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। মেয়ে নুসরাত জাহান তানজিলা গৃহিণী হলেও আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত ও সমাজ সেবায় তার বিশেষ অবদান রয়েছে এবং তিনি নিকলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক আয়াজের সহধর্মিনী। মেজো ছেলে মো. মাসুদ রানা অরুন একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন। সর্বশেষ ছোট ছেলে মামুনুর রশিদ নীরব তিনি মাদারীপুর জেলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে কর্মরত রয়েছেন।
নুরজাহান বেগম জানান, প্রায় ৬০ বছর আগে মজলিশপুর স্কুলে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি পড়াশোনা করেছেন। ঐ সময়ে আর কোনো স্কুল না থাকায় এবং ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় তার পড়াশোনা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন ছেলেমেয়েরা যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকে।
এ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ উপজেলায় আরও ৪জন সফল নারীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন- অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী উপজেলার রোদারপুড্ডা গ্রামের মোছা. ঝুমা আক্তার। শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী মজলিশপুর গ্রামের ড. নাদিরা বেগম। নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে নতুন উদ্যমে নিজেকে গড়ে তুলেছেন কারপাশা গ্রামের মোছা. মিনারা এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় নিকলী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেজিয়া আক্তার।
ইউডিএফ দূর্গা রানী সাহার সঞ্চালনায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. শাকিলা পারভীনের সভাপতিত্বে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নিকলী উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক আয়াজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেজিয়া আক্তার, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, নিকলী শহীদ স্মরনিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাফি উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা।
