দেখতে দেখতে সাতটা দিন শেষ। ৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ২৯ তম কোলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামলো জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ দিনে রবীন্দ্রসদনে আজ মঞ্চে ছিলেন অদিতি রাও হায়দারি এবং বলিউড পরিচালক সুধীর মিশ্র। আরও ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, ফিরহাদ হাকিম, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব গৌতম ঘোষ, মমতা শঙ্কর, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, রাজ চক্রবর্তী প্রমুখ।
এছাড়া ৩৯ টি দেশের মোট ২১৯ টি ছবি ৮ দিন ব্যাপী ২৩টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়। নন্দন, রবীন্দ্রসদন, শিশির মঞ্চ ছাড়াও শহর জুড়ে বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখার সুযোগ পায় উৎসাহী সিনেমাপ্রেমারা। চলচ্চিত্র শতবার্ষিকী ভবনে ৩৫ মিলিমিটারে প্রোজেকশনের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুই প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণাল সেন আর সত্যজিৎ রায়কে পায় দর্শকরা। মৃণাল সেনের ইন্টারভিউ ও কোলকাতা ৭১ এবং সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত।
এ বছর প্রয়াত হয়েছেন স্পেনের বিখ্যাত চিত্রপরিচালক কার্লোস সাওরা। তাঁর স্মরণে এ উৎসবে তাঁর দুটি ছবি দেখানো হয়।
নিউ ইয়র্ক মিউজিয়ম অফ মডার্ন আর্টের কিউরেটর লরেন্স কার্ডিশ সত্যজিৎ রায়ে স্মারক বক্তৃতা দেন। আন্তর্জাতিক অনেক চিত্র পরিচালকদের নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন তিনি — যেমন বলা যায় জঁ লুক গদার, ফাসবিনদার, শার্লি ক্লার্ক, জানুসির কথা। তিনি বলেন সত্যজিৎ-এর কথা, বলেন ভারতীয় সিনেমার প্রতি তাঁর ভালবাসার কথা।
এবছর মৃণাল সেনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মৃণাল সেনের ৬টি ছবি দেখানো হয়। তাঁকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এটি উদ্বোধন করেন পরিচালক গৌতম ঘোষ, পরিচালক অঞ্জন দত্ত, পরিচালক হরিনাথ চক্রবর্তী।
এবছর হিন্দি ছবির মহানায়ক দেব আনন্দেরও জন্ম শতবর্ষ। তাই এবারের কোলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর ওপরও একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল — প্রদর্শিত হয়েছিল দেব আনন্দের অভিনীত ৭ টি ছবি। সেনেগালের বিখ্যাত লেখক ও চিত্রপরিচালক ওসমান সেমবেনেরও ৭ টি ছবি প্রদর্শিত হয় এই উৎসবে।
এ বছর কোলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ফোকাস কান্ট্রি ছিল স্পেন এবং স্পেশাল ফোকাস কান্ট্রি ছিল অস্ট্রেলিয়া। রেট্রোসপেকটিভ বিভাগে প্রদর্শিত হয় রুশ চিত্র পরিচালক পাভেল লুঙ্গিনের ৭ টি ছবি।
এ উৎসব ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশন বিভাগের প্রধান বিচারক লরেন্স কার্টিস বলেন কোলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নির্বাচন অত্যন্ত উন্নত মানের। বিচারক এঞ্জেলা মলিনা বলেন, “কলকাতার দর্শকরা হৃদয় দিয়ে অনুভব করে ছবি দেখেন।”
ইরানের পরিচালক মানিজ হেকমত বলেন, “কোলকাতায় সিনেমার এক বিরাট ঐতিহ্য আছে। সে কারণেই এত মানুষের ভীড় জমে যায় ছবি দেখার জন্য।”
