ছেলের পা ভেঙে দেওয়ার খবরে বাবার মৃত্যু

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:১০

পাবনার ঈশ্বরদীতে ছেলের পা ভেঙে দেওয়ার খবরে বাবা আকমল হোসেনের (৬৫) মৃত্যুর খবর এসেছে। জানা গেছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার দাশুড়িয়ায় সিএনজি পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছেলের পরিচয়- মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন।

মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর হোসেনসহ ছয়-সাতজনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে দাশুরিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

আহত ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর হোসেন ও অভিযুক্ত ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। ছবি: ইত্তেফাক

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেলে মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর হোসেন সাত-আটজন কর্মী-সমর্থক নিয়ে মুলাডুলি মুক্তমঞ্চে ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে যাচ্ছিলেন। পথে দাশুড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে দাশুড়িয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা আলমগীর হোসেন ও তার কর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এতে আলমগীরের দুই পা ভেঙে যায় এবং তার কয়েকজন সমর্থক গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে আলমগীরসহ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।

আরেকজন আহত ছাত্রলীগ নেতা কাউছার। ছবি: ইত্তেফাক

ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মুলাডুলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ আয়োজিত আজকের বর্ধিত সভায় আমিসহ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতারা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এর সভাপতিত্ব করার কথা ছিল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেনের। বর্ধিত সভায় যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে দাশুড়িয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও তার সমর্থকরা আলমগীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তার দুই পা ভেঙে দেয়। আলমগীরের দুই পা ভেঙে যাওয়ার খবরে তার বাবার মৃত্যু হয়। আমরা উপজেলা ছাত্রলীগ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, ‘ফয়সালকে রাতেই তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিল্টন হোসেন বলেন, ‘আহত আলমগীরকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। তার দুই পা-ই ভেঙে গেছে।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠু বলেন, ‘আলমগীর ও ফাহিম দুজনই আমার নিকটাত্মীয়। কলেজ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল বলে শুনেছি। সেই দ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে।’

দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাস ও আশেপাশের এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।’

অভিযুক্ত কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিনিধির ফোন ধরেননি তিনি।

ঈশ্বরদী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এইচএ