নতুন ইউনিট গঠন, কর্মঘণ্টা কমানো ও পণ্যের বাজার যাচাইকরণ করে শুল্ক নির্ধারণসহ অভ্যন্তরীণ নানা সংস্কার করার ফলে আমদানি পণ্য কমলেও রাজস্ব আদায়ে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। গত ২০২২-২৩ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ হাজার ৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩১৬ কোটি টাকা বেশি। ডলারের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে আমদানি পণ্য কমে গেলেও রাজস্ব আদায়ের গতি চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস সূত্র।
ঢাকা কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, ঢাকা কাস্টম হাউস রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবায়নে অন্যান্য কাস্টম হাউসের তুলনায় প্রথমস্থানে রয়েছে। গত অর্থ বছরের রাজস্ব আদায়ের তুলনায় চলমান অর্থবছরের রাজস্ব আদায় ৩১৬ কোটিরও বেশি। অভ্যন্তরীণ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউস সূত্র জানায়, রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে বেশকিছু সংস্কার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে এয়ারফ্রেইটে (আমদানী কার্গো) পূর্বে একজন উপ-কমিশনার থাকলেও বর্তমানে দুইজন উপ-কমিশনার কাজ করেন। এতে করে কাজের গতি বেড়েছে। পূর্বে আমদানি পণ্যের ওপর ৯টি গ্রুপ ছিল। আর এখন ১৯টি গ্রুপে বিভক্ত করে একজন করে রাজস্ব কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যার ফলে আমদানি পণ্যেও দ্রুত শুল্কায়ন সম্ভব হচ্ছে। পণ্যের বর্তমান বাজার মূল্যের ওপর শুল্কায়ন করার কারণেও রাজস্ব বেড়েছে। ঢাকা কাস্টমস হাউজে বাণিজ্য সুবিধার জন্য কার্গো কমপ্লেক্সে দুইটি গেট করা হয়েছে একটি কমার্শিয়াল পণ্যের গেট আরেকটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পণ্যের গেট। বিমানবন্দরে আগে ৩ শিফট থাকলেও বর্তমানে ৪টি শিফট করা হয়েছে। এতে করে কর্মকর্তাদের কর্মঘণ্টা কমে গেছে। তাদের কাজের উদ্যোম বেড়েছে।
এছাড়া এন্টি মানি লন্ডারিং ইউনিট গঠন করা হয়েছে। যার কারণে শুল্ক ফাঁকি বা টাকা পাচারের চেষ্টাও কমে গেছে বলে জানায় কাস্টমস সূত্র।
এদিকে বর্তমানে ডলার সঙ্কট রয়েছে। এছাড়া ডলারের দামও চড়া। আবার আমদানির ব্যাপারে সরকারের নতুন করে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। এ কারণে পণ্যের আমদানিও কমে গেছে। সঙ্গতকারণে আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে দেশের রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমদানি পণ্য কমলেও রাজস্ব আদায়ের যে গতিধারা তা সঠিক রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয়ের এমন রেকর্ড দেশের অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। চোরাচালান বন্ধ, জালিয়াতি ও শুল্ক ফাঁকি রোধে কাস্টমসের নানান উদ্যোগের কারণে রাজস্ব আদায় বেড়েছে বলে মনে করছেন তারা।
ঢাকা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, দেশে অব্যাহত ডলার সঙ্কট, বিলাসবহুল ও অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নানা বিধি-নিষেধসহ বহুমুখী চাপের মধ্যেও রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে ঢাকা কাস্টম হাউস। অব্যাহতভাবে আমদানি কমছে, বিশেষ করে অধিক শুল্ক আদায় হয় এমন পণ্যের আমদানি কমে গেছে। এরপরও রাজস্ব আহরণ গত বছরের তুলনায় বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাস ও শুল্কায়ন করা গেলে রাজস্ব আদায়ের গতি আরও বাড়বে।
বর্তমানে এয়ারফ্রেইটে নিরাপত্তা বাড়ানো, দ্রুত শুল্কায়নে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর এ সকল পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এই কাস্টমস কর্মকর্তা।
