পাঁচ মিনিটেই গুঁড়িয়ে গেল আবাহনী

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:২০

খেলার শুরুটা দেখে বুঝার উপায় ছিল না যে, খেলা এখনো বাকি আছে। এখনো অনেক ঘটনা দেখার অপেক্ষা সেই খেলা দেখিয়ে দিল বসুন্ধরা কিংস। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র পাঁচ মিনিটে ভেঙে তচনচ আবাহনী। এক ঝড়ে আবাহনী উড়ে গেল। এমনটা কল্পনাও করেনি তারা। সবার মুখে একটাই কথা আবাহনী ৪-০ গালে কিংসের কাছে হারবে সেটা যেন অবিশ্বাস্য। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সেটাই হয়েছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে ফাইনালে খেলবে বসুন্ধরা কিংস এবং মোহামেডান।

কিংসের নিজেদের মাঠে খেলা। আবাহনীকে কটাক্ষ করতে সমর্থকরা ব্যানারে ছবি এঁকে নিয়ে গিয়েছিলেন। স্কুটারের যাচ্ছে আবাহনী। এমন ছবি দেখে আবাহনী মনে মনে হয়তো ধরে নিয়েছিল তারা খেলার মাঠেই জবাব দেবে। কিন্তু সন্ধ্যার পর কিংসের ঘুটঘুটে অন্ধকার এলাকা থেকে আবাহনীর খেলোয়াড়দের নিয়ে ছুটে চলা বাসটি দেখে একজনও ঢিল ছোড়ে নাই। আর যাই হোক ৯০ দশকের ফুটবল হলেও কাল সন্ধ্যায় আবাহনী এভাবে স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারত না। সমর্থকদের রোষানলে পড়তেই হতো। তার পরও বাসে উঠার সময় আবাহনীর পথে পুলিশ রাখা ছিল। কোনো দিকে না তাকিয়ে আবাহনীর ফুটবলাররা বাসে চেপে বসলেন। গোপালগঞ্জ থেকে খবর এসেছিল উজবেগ ফুটবলার মোজাফফরের ফ্রিকিক থেকে মোহামেডান ১-০ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। সেই কথাটা জেনেই কাল কিংসের মাঠে আবাহনী এবং বসুন্ধরা নামল। প্রথমার্ধে খেলল আবাহনী, দ্বিতীয় খেলল বসুন্ধরা কিংস। দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটেই গুঁড়িয়ে গিয়েছে আবাহনী। অথচ দিনের শেষ বিকালে হিম হিম ঠান্ডায় খেলার শুরুতেই আলো ছড়িয়ে দিয়েছিল আবাহনী।

কিংসের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ, কাজী তারিককে যেন পুতল নাচ দেখিয়েছেন আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ওয়াশিংটন স্যান্টোস। অসাধারণ তার পায়ের কাজ। বলটা ছোঁ মেরে নেওয়ার কারিশমা জানেন। দুই তিন বার কিংসের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করে দিয়ে ঢুকলেও গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স আবাহনীকে পেতে দেয়নি। ওয়াশিংটনের শট কর্নার করেন শ্রাবণ। ওয়াশিংটনের শট ফিস্ট করে ফেরান। সামনে আবাহনীর কেউ না থাকায় গোলের সুযোগ নিতে পারেননি। বসুন্ধরা কিংসের শেখ মোরসালিন গোলপোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসা আবাহনীর গোলরক্ষক পাপ্পু হোসেনকে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্টে নিচু শট করলে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জনাথন দৌড়ে গিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান। আবাহনীর কপাল খারাপ। ব্রাজিলিয়ান নাইজেরিয়ার এমেকা গোলরক্ষক শ্রাবণকে একা পেয়েও জালে বল রাখতে পারেননি, এমেকার শট ফিস্ট করে বাঁচিয়ে দেন শ্রাবণ। মুহূর্তেই আবার সুযোগ পায় আবাহনী, এবার ব্রাজিলিয়ান জনাথনের শট ফেরান শ্রাবণ।

খেলার দেখে মনে হচ্ছিল আবাহনী আজ আগুনের ফুলকি ছড়াচ্ছে। কিংসের মাঠে দর্শক সবই তাদের নিজেদের ডেকে আনা। জার্সি, নাস্তা, আর বাস পাঠিয়ে আনা। কিংসের সমর্থকদের সামনে আবাহনীর হাতেগোনা সমর্থকরা যেন গ্যালারির এক কোনায় গুটিসুটি হয়ে বসেছিলেন। গোল দেখার অপেক্ষায়।

সেটা উলটো হয়ে গেল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আবাহনী গুঁড়িয়ে গেল। সব লন্ডভন্ড। আবাহনীর ইরানি ফুটবলার মিলাদের ভুল পাস ধরে কিংসের রাকিব বাড়িয়ে দেন। সেই বল কিংসের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসন এবং স্বদেশি ডরিয়েলটনের পা হয়ে জুনিয়র সোহেল রানা গোলে পরিণত হলেন, ১-০। বলটা আবাহনীর ডিফেন্ডার রেজার বুকে লেগে বল গতিপথ পরিবর্তন হয়ে জালে জড়ায়।

পাঁচ মিনিট ব্যবধানে রাকিব দ্বিতীয় গোলের পুরো কৃতিত্ব তুলে নিয়েছেন, শুধু পা স্পর্শ করেছেন ডরিয়েলটন, ২-০। এখান আবাহনী আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ৭৭ মিনিটে সাদ উদ্দিনের উত্স হতে আরেক ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল গোল করেন, ৩-০। আর ৮৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় কিংস, ডিফেন্ডার মিলাদ শেখের হাতে বল লাগায়। অধিনায়ক রবসন চতুর্থ গোলটি করে পেরেক ঠুকে দেন, ৪-০।  

ইত্তেফাক/এএইচপি