সংসদ সদস্যের ভাগনে জহির উদ্দিন এবং অনুসারী রুবেল আলী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রউফের ডান হাত ধরে বলেন, হুকুম আছে, তোর এই হাত কেটে নিয়ে এমপিকে দিতে হবে।’ এরপরই ২৪ যুবক আব্দুর রউফকে চেয়ার থেকে তুলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এসব অভিযোগ করেন বড়াইগ্রামের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রউফ। নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর ভাগনে জহির উদ্দিনসহ ৩৫ জনকে ঘটনায় অভিযুক্ত করেছেন ঐ শিক্ষা কর্মকর্তা।
আব্দুর রউফ বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজের দাপ্তরিক কার্যালয়েই ছিলেন। দুপুরের দিকে জহির এবং সংসদ সদস্যের অনুসারী রুবেল, শামসুদ্দিন, জামাল উদ্দিন, বাহাউদ্দিনসহ ২৪ জন যুবক তার কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। আসার কারণ জানতে চাইলে জহির ও উপজেলা সৈনিক লীগের সভাপতি রুবেল আলী তার ডান হাত কেটে নেওয়ার কথা বলেন। এরপরই মারধর শুরু হয়। এ সময় হামলাকারীরা ‘এমপি স্যার নিষেধ করার পরেও তুই উপজেলায় নিয়োগ দিচ্ছিস, তোর হাত কেটে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ আছে’। আকস্মিক ঘটনায় তিনি
হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।
এর আগে বুধবার একটি নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বড়াইগ্রামের ইসলামপুর-গুনাইহাটি ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করেন একই ব্যক্তিরা। এঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর ভাগনে জহির উদ্দিনসহ চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রউফ। তবে হামলাকারীদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী। তিনি বলেন, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন। দোষীদের গ্রেফতারে পুলিশকে অনুরোধ করেন তিনি।
ঘটনায় জড়িতরা ফোন ধরেননি। তবে অভিযুক্ত সৈনিক লীগের সভাপতি রুবেল আলী বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মারধরের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সংসদ সদস্যের সঙ্গে রাজনীতি করায় শক্রতা করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, তিনি শিক্ষা কার্যালয়ের নিচতলায় দায়িত্ব পালন করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রউফকে কক্ষে আটকে রেখে মারপিটের খবর পান তিনি। দ্রুত শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে বন্ধ দরজা খোলার চেষ্টা করেন। এ সময় এক যুবক বের হয়ে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান।
তাত্ক্ষণিক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বোরহান উদ্দিন, বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম, উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম, আব্দুল বারেক, পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক মিনার আলী ঘটনাস্থলে যান। তার আগেই অপরাধীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে যান। সহকারী কমিশনার ঐ শিক্ষা কর্মকর্তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে উপজেলার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা জড়ো হন। উপস্থিত সবাই এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাত্ক্ষণিক বিচার দাবি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল আযম ইত্তেফাককে বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বড়াইগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রাসেল ইত্তেফাককে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
