কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামুরমরিচ্যা চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে একটি লবণের ট্রাক থেকে ১৮ কেজি ২০ গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) জব্দ করেছে বিজিবির সদস্যরা। এ সময় মাদক চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। রামু ৩০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান তানজিদ জানান, অভিযান চলাকালে লবণের ট্রাক ও আইসের মালিকের বাসা, অফিস ও গোডাউন থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা, আইফোন, বিদেশি মদ ও দুটি পাসপোর্টও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন টেকনাফ নোয়াখালীপাড়া এলাকার মৃত আজীজুর রহমানের ছেলে ট্রাকচালক কেফায়ত উল্লাহ ও টেকনাফ মহেশখালীপাড়ার ডেগিল্যার বিল এলাকার কালা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ হারুন। তারা ট্রাকটির চালক ও হেলপার (সহকারী)। এদিকে অভিযানের কথা জানতে পেরে মাদক চক্রের মূল হোতা হোসেইন আহমদ পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানের বর্ণনা
গতকাল শুক্রবার বিকেলে ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিদ বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি ট্রাক থামানো হয়। ট্রাকে থাকা লবণের ট্রাকের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো বিপুল পরিমাণ আইস জব্দ করা হয়। পরে তা পরিমাপ করে ১৮ কেজি ২০ গ্রাম পাওয়া যায়। এ সময় লবণ পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে।’
অধিনায়ক আরও জানান, ‘ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটকের পর তারা (১৬৪ ধারায়) প্রাথমিক স্বীকারোক্তি দেন। জব্দ করা লবণের ট্রাক ও আইস (ক্রিস্টাল মেথ) মালিক টেকনাফের সাবরাং ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডেগিল্ল্যার বিল এলাকার হোসাইন আহমদ। পরে রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মেহেদী হোসাইন কবির, রামু ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক ও টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক ও প্রয়োজনীয় সদস্যদের নিয়ে সাবরাংয়ে হোসাইন আহমদের বাসা, গোডাউন ও অফিসে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অফিস তল্লাশির সময়ে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ২০ টাকা, একটি আইফোন, এক বোতল বিদেশি মদ ও নিজের নামে দুটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে ভোর পাঁচটার দিকে জব্দকৃত মালামালসহ মরিচ্যা চেকপোস্টে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। ট্রাকটি এখন রামু সেক্টরে আছে।’
লবণ ও আইসের মালিক হোসাইন আহমদকে পলাতক দেখিয়ে এবং গ্রেপ্তার হওয়া চালক-হেলপারসহ জব্দ করা মালামালসহ পৃথক মামলা করে রামু থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের সঙ্গে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেছেন রামু ৩০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান তানজিদ।
