মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

স্বাধীনতা কাপ ফাইনাল আজ গোপালগঞ্জে

কার হাতে ট্রফি উঠবে মোহামেডান না কিংস

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৩৩

সকালের রোদ্দুরে নিজেদের মাঠে বসুন্ধরা কিংস যখন অনুশীলনে ব্যস্ত তখন মোহামেডান গোপালগঞ্জের পথে। একদিন আগেই মোহামেডান গোপালগঞ্জ পৌঁছায়। বেলা পৌনে ২টায় শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে আজ স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে মোহামেডান এবং বসুন্ধরা কিংস। সাত মাস পর গোপালগঞ্জের মাঠে মোহামেডানের মুখোমুখি হবে কিংস। 

গত ৯ মে ফেডারেশন কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে মোহামেডান ২-১ গোলে হারিয়েছিল কিংসকে। ফাইনালে উঠার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে মোহামেডান কুমিল্লার মাঠে ফাইনালে আবাহনীর বিপক্ষে খেলেছিল। চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান। সেই কথা এখনো ভুলতে পারেনি কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন। গত ১৫ ডিসেম্বর কিংসের মাঠে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে কিংস ৪-০ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে।

সেই ম্যাচের আনন্দের মধ্যেও কথা প্রসঙ্গে কোচ অস্কার ব্রুজন নিজে মনে করিয়ে দিলেন ৯ মে হারের কথা। ব্রুজন যেমনটি বলছিলেন, ‘এ ধরনের টুর্নামেন্টে মোহামেডান খুবই ভালো খেলছে। তারা যে কোনো ম্যাচেই জিততে পারে। তারা আমাদেরকে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে ফেলে দিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আপনাকে বুঝতে হবে ফুটবল বডিকন্টাক্ট গেম। এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেমিফাইনাল জিতেছি। এখন ফাইনাল জিততে চাই।’ 

৯ বছর পর আবার স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে উঠেছে মোহামেডান। ২০১৪ সালে শেষ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া মোহামেডান শেষ ৫টা স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি। এবার ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সাত মাসের ব্যবধানে আরেকটি ট্রফি দূরে। সাদাকালো সমর্থকরা হিসাব করছেন কিংসের যেসব ফুটবলার রয়েছেন তাদের প্রিয় দল মোহামেডান কতোটা গুছিয়ে উঠতে পারবে। অনেকের চোখে বসুন্ধরা কিংস-আবাহনীর সেমিফাইনাল জ্বলজ্বল করছে। দ্বিতীয়ার্ধে টপাটপ গোল হজম করেছে। ৪-০ ব্যবধানে হেরেছে। 

কিংসের আক্রমণভাগ থেকে মাঝমাঠ, সবখানেই শক্তিশালী। পাওয়ার হাউজ কিংসের বিপক্ষে কাগজ-কলম নিয়ে বসেছিলেন মোহামেডান কোচ আলফাজ আহমেদ। স্বাধীনতা কাপের প্রথম সেমিফাইনালে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে আলফাজ মনে করেছিলেন আবাহনী হলে দর্শক খুশি হতো বেশি। বসুন্ধরা বেস্ট দল বাংলাদেশে। আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলব।’ আলফাজ নিজ দলের শক্তি সম্পর্কে বললেন, ‘দিয়াবাতে, সানডে, ফ্রিকিক মাস্টার মোজাফফর যদি জ্বলে উঠে, সব খেলোয়াড়রা যদি এক হয়ে উঠতে পারে তাহলে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হবে।’ আলফাজের কথায় ইঙ্গিত আছে। ভালো একটা ম্যাচ হবে। গত শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জের এই মাঠেই প্রথম সেমিফাইনালে উজবেকি ফুটবলার মোজাফফরের গোলে মোহামেডান (১-০) রহমতগঞ্জকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। সেখান থেকেই ট্রফি হাতে তুলতে চায় মোহামেডান।

ফেডারেশন কাপ ফাইনালে মোহামেডান-আবাহনীর লড়াই যেমনটা উপভোগ্য ছিল সেরকম হতে পারে। দুই দলই জানিয়েছে তাদের দলে কোনো ইনজুরি নেই, কার্ড সমস্যাও নেই। এখন দেখার পালা স্বাধীনতার কাপের ১৩ নম্বর আসরের ট্রফি হাতে গোপালগঞ্জ থেকে কারা ঢাকায় ফিরবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ