হত্যার রাজনীতি আমার ভালো লাগে না: শামীম ওসমান

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ২১:৪৮

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী একেএম শামীম ওসমানের পক্ষে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৩১টি নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে হাজার হাজার মানুষের আনন্দ মিছিল সিদ্ধিরগঞ্জ ফতুল্লার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় নৌকা পক্ষে ভোট চাওয়া হয়। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লার নির্বাচনী এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। মিছিলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ ভোটাররা অংশ নেন। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে যুবক-যুবতীরা নেচে গেছে নৌকার পক্ষে ভোট চায়। 

এ ছাড়া শামীম ওসমান ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের ভোলাইল নূর মসজিদ প্রাঙ্গন, হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, গোয়ালবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, ফরাজীকান্দা মসজিদ সংলগ্ন মাঠ, মাঝিবাড়ি সংলগ্ন মাঠ ও কাশীপুর আওয়ামী লীগ অফিস সংলগ্ন মাঠে নির্বাচনী সভাকালে দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একযোগে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য এলাকাবাসীকে আহবান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের নামে যারা মানুষ মারছে তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। আগামীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এইসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে শামীম ওসমান আরও বলেন, চলন্ত ট্রেনে অগ্নিসংযোগ করে মা-ছেলেসহ ৪ জনকে পুড়িয়ে মারাকে রাজনীতি বলে না। এই হত্যার রাজনীতি আমার ভালো লাগে না। এই বাচ্চাটা এখানে আছে। আমি ট্রেনে চড়ে ধরেন বাবা মেয়ে গল্প করতে করতে যাচ্ছি। সেখানে কেউ আগুন দিয়ে দিল, রাজনীতির নামে। আমি আমার মেয়েটাকে রক্ষা করতে পারলাম না। বাবা মেয়ে জড়িয়ে ধরে থাকা অবস্থায় একসঙ্গে মরে গেলাম। এর নাম কী রাজনীতি। আপনারা কী আল্লাহর কাছে জবাব দিবেন না। সব কাজের ঠেকা কী আমাদের। 

তিনি বলেন, আমার ৫৪ জন ছেলেকে এই হাত দিয়ে দাফন করেছি। আমরা তো প্রতিশোধ নেইনি। আমাদের ওপর বোমা হামলা করা হয়েছিল, কেন? আমরা স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে কথা বলে কি অপরাধ করেছি? আমার এই ছোট ছোট ছেলেদের বৌ কেন বিধবা হবে? ওদের ছেলে মেয়েরা কেন বাবা ছাড়া মানুষ হবে? 

তিনি আরও বলেন, আমি বিদেশ থেকে চাইলেও ওদের নাই করে দিতে পারতাম। পুলিশ-প্রশাসন সব ওদের পক্ষে থাকুক। আমরা পারব নাই করে দিতে। কিন্তু আমরা করবো না। কারণ তাহলে ওদের সাথে আমাদের আর কোন তফাৎ থাকবে না। আমরা এই কাশিপুর থেকে মুন্সিগঞ্জ ফ্লাইওভার করছি। এই রাস্তা আমার বাবার নামে হবে। এই ঢাকা নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক আমার বাবার নামে হয়েছে। আদমজী সড়ক আমার মায়ের নামে হয়েছে। আমি কিন্তু চাইনি, আমার বাবা মাকে সম্মান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মানুষ পানির নিচে গাদাগাদি করে থাকত। আমরা সেই ডিএনডি প্রজেক্ট নিয়ে এসেছি। এই রাস্তা করেছি ছয়শ পঁচিশ কোটি টাকার, শুধু ফতুল্লায়। আমরা প্রাইমারি স্কুল করেছি হাইস্কুল করেছি। পাগলের মতো কাজ করতে চেষ্টা করেছি। কেন? শুধু আল্লাহকে খুশি করতে। 

ওসমান বলেন, আমার নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল হবে। নারায়ণগঞ্জে যদি আইটি ইন্সটিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয়, মেট্রোরেল হয়ে যায় আমাদের কী দরকার আছে ঢাকায় যাওয়ার। আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই, স্মার্ট বাংলাদেশ দেখতে চাই। এগুলো ভোগ করবে কে? আমাদের বাচ্চারা। এই রাস্তা দিয়ে কী শুধু আওয়ামী লীগ চলে। বিএনপিও তো চলে। আমি নির্বাচনের পর সবাইকে একসাথে নিয়ে করতে চাই। এসময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী শামীম ওসমানের সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। সকলের মুখে ছিল নৌকার শ্লোগান।

ইত্তেফাক/পিও