নিজের নির্বাচনী লিফলেটে ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত’ কথাটি লিখে কিশোরগঞ্জে তুমুল সমালোচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। আজ শুক্রবার দুপুরে ইত্তেফাককে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। চুন্নু দাবি করেন, ‘এটা ছাপায় ভুল ছিল।’
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতার কারণে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয় আওয়ামী লীগ। এতে দলের প্রার্থী ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নাসিরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুজিবুল হক চুন্নু।
গত ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। এরপর থেকে এলাকায় মুজিবুল হকের পোস্টার টাঙানো শুরু হয়। যাতে ‘আওয়ামী লীগ-সমর্থিত’ লেখা আছে। যদিও ইত্তেফাককে চুন্নু বলেছেন, ‘এরই মধ্যে ভুল সংশোধন করা হয়েছে।’
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটার ও আওয়ামী লীগ নেতারাও। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের এক স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও দায়ের করেছেন।
এ আসনে আওয়ামী লীগের চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী: নিউইয়র্ক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহফুজুল হক (ঈগল), মেজর (অব.) মো. নাসিমুল হক (কাঁচি), কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার গোলাম কবীর ভূঁইয়া (কেটলি) ও মো. রুবেল মিয়া (ট্রাক) প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পোস্টার নিয়ে ক্ষোভ
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, সরকার সমঝোতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও দলের ভোটাররা এটা মেনে নিতে পারছেন না। কারণ গত ১৫ বছর নৌকার সমর্থন নিয়ে লাঙ্গল বিজয়ী হলেও সংসদ সদস্য মুজিবুল হক নিজের ও জাতীয় পার্টির কিছু নেতাকর্মী ছাড়া কারও কোনো কাজে আসেননি। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও এ আসনে জাতীয় পার্টির এই নেতার কারণে দলের নেতাকর্মীরা বঞ্চিত ও অবহেলিত। তাই এবার আর ছাড় দেওয়া হবে না তাকে।’
পোস্টারে ‘আওয়ামী লীগ-সমর্থিত’ কথাটি লেখা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম কবীর ভূঁইয়া বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুজিবুল হক আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কথাটি পোস্টারে লিখে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে একক নির্বাচন করছে, তাদের প্রার্থীর সংখ্যা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি। এত বড় বড় কথা বলেন, আবার পোস্টারে কীভাবে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত লেখেন? সে জন্য গত বুধবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে ইসির কাছে অভিযোগ দিয়েছি।’
করিমগঞ্জের বাসিন্দা এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ-বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘তিনি (মুজিবুল হক) সবসময় বলেছেন, তারা বিরোধী দল। তাহলে বিরোধী দল কীভাবে সরকারি দলের সমর্থিত হয়? তিনি পোস্টারে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কথা লিখতে পারেন না।’
একই মত নৌকার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা নাসিরুল ইসলাম খানেরও। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হওয়ায় মুজিবুল হককে এ আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তাই বলে সমর্থন দেওয়া হয়নি। কাজেই পোস্টারে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত লেখাটা অন্যায় হয়েছে।’
‘ইচ্ছা করে লিখিনি, ছাপায় ভুল’
এদিকে লিফলেটে ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত’ কথাটি লেখার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে চুন্নু ইত্তেফাককে বলেন, ‘এটা ভুল করে লেখা হয়েছে। ভুল সংশোধন করে নতুন লিফলেট এরই মধ্যে (কিশোরগঞ্জে) পাঠানো হয়েছে। কথাটি আমি ইচ্ছা করে লিখিনি।’
‘আওয়ামী লীগ-সমর্থিত’ কথাটি উল্লেখ করার পেছনে কারণ বর্ণনা করে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করিমগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেহেতু ২৬ আসনে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দিয়ে ছাড় দিয়েছে ও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করিয়েছে, তাই আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কথাটা লেখা দোষের কিছু নয়। এটা লেখা যায়। গত নির্বাচনেও মুজিবুল হকের (চুন্নু) পোস্টারে একই কথা লেখা হয়েছিল।’
কিছুই করার নেই: রিটার্নিং কর্মকর্তা
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মুজিবুল হকের পোস্টারের ব্যাপারে একজন প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। যেহেতু এটা দলীয় বিষয়, তাই এ বিষয়ে করার কিছু নেই। অভিযোগকারী ব্যক্তিকে এ বিষয়ে ইসিতে লিখিত আবেদনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

