নির্বাচনী সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক কালবেলা ও দৈনিক কল্যাণের কেশবপুর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ও জীবন নাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক পৌর আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে কেশবপুর ত্রিমোহিনী মোড় এলাকায় পৌর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিক টিটো অকথ্য গালাগাল ও হুমকি প্রদান করে। প্রতিবাদে কেশবপুর প্রেসক্লাবে এক জরুরি সভায় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
জানা গেছে, যশোর-৬ কেশবপুর সংসদীয় আসনের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর হলফনামা ও তার কর্মী-সমর্থকদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের সংবাদ ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক কালবেলা ও যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক কল্যাণ, প্রথম আলো, যুগান্তর, আজকের পত্রিকা, গ্রামের কাগজসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে দাঁড়িয়ে কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিক টিটো সাংবাদিদের বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে পৌঁছলে তাকে উদ্দেশ্য করে তার হাত-পা ভেঙে ফেলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এবং তার সঙ্গে থাকা একদল ব্যক্তিদের ওই সাংবাদিকের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এ সময় কেশবপুর থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হলে হুমকিদাতারা পরবর্তীতে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুহিন হোসেন এবং কেশবপুর থানার ওসি জহিরুল আলমকে অবহিত করা হয়।
এ ঘটনায় কেশবপুর প্রেসক্লাবে শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকালে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ উজ জামান খান। সাধারণ সম্পাদক জয়দেব চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তৃতা করেন সাবেক সভাপতি যুগান্তর প্রতিনিধি আজিজুর রহমান, নয়া দিগন্ত প্রতিনিধি আব্দুল হাই সিদ্দিকী, প্রথম আলো প্রতিনিধি দিলীপ মোদক, কালেরকণ্ঠ প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম খান, রূপান্তর প্রতিদিন প্রতিনিধি উৎপল দে, দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি শামসুর রহমান, ইনকিলাব প্রতিনিধি হাজী রুহুল কুদ্দুস, আমার সংবাদ প্রতিনিধি শেখ শাহীনুল ইসলাম, তৃতীয় মাত্রা প্রতিনিধি আব্দুল করিম, আজকের পত্রিকার ও গ্রামের কাগজ প্রতিনিধি কামরুজ্জামান রাজু, দৈনিক স্পন্দন প্রতিনিধি মিলন দে, স্বদেশ প্রতিদিন প্রতিনিধি বিল্লাল হোসেন, খুলনাঞ্চল প্রতিনিধি আলমগাীর হোসেন, সত্যপাঠ প্রতিনিধি অলিয়ার রহমানসহ অনেকে।
সভায় সবার সম্মতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। এ ছাড়াও থানায় জিডি ও সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পৌর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিক টিটো বলেন, হুমকি দেওয়া তো দূরের কথা আমি তার ছায়াও দেখিনি।
এ বিষয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সামাদ বলেন, ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনাটি টিটোর ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
