শারীরিক অবস্থা প্রস্তুত থাকলে গতকাল সকালেই বাফুফে কাজী সালাহউদ্দিনের বাইপাস সার্জারি করানো হতো। খোঁজ নিয়ে জানা গেল গতকাল বিকাল পর্যন্ত হাসপাতালের ওপেনহার্ট সার্জারির অপারেশন থিয়েটারে কোনো রোগী আসেনি। গতকালও সালাহউদ্দিনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আজ অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। সেটিও নিশ্চিত না, কারণ সালাহউদ্দিনে বুকে কফ জমেছে। কাশি উঠছে। দীর্ঘদিন ধূমপানের কারণে বুকে সমস্যা হচ্ছে। কোনো সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন যখন কথা বলেন তার কণ্ঠ শুনলে মনে হতো তিনি মাত্রই ঘুম থেকে উঠে এসেছেন। গলার স্বর একেবারেই ভাঙা। থাইরয়েডের সমস্যা কি না জানতে চাইলে সিগারেট দেখিয়ে বলতেন ‘এটা ছেড়ে দিলেই ঠিক হয়ে যাবে।’
অস্ত্রোপচারের আগে ওষুধের মাধ্যমে কাশি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। উচ্চরক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের টেবিলে যাওয়ার আগে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হবে। তার আগে শরীরের সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক মাত্রার মধ্যে চলে আসলেই অস্ত্রোপচার করবেন চিকিত্সকরা। দেশের ১ নম্বর ফুটবল তারকার জীবনে এমন দিন আর আসেনি কখনো ডাক্তারদের অধীনে টানা আট দিন পূর্ণ বিশ্রামে কাটিয়ে দিলেন। পরিবারের খুব কাছেই আছেন। যত্ন করছেন স্ত্রী ইমা, কন্যা কাজী সারাজিন, পুত্র কাজী শাফিল। বাবার পাশে পালাক্রমে সময় দিচ্ছেন তারা।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রতিদিনের মতো গতকালও সাতসকালে বাবার কাছে ছুটে গেলেন পুত্র কাজী শাফিল। বেরিয়ে গেছেন দুপুরের পর। মনটা ভালো নেই কাজী শাফিলের। সব সময় হাসি মুখে কথা শাফিলকে একটু অচেনাই মনে হলো। বাবাকে হাসপাতালের বেডে রেখে অন্য কোনো কাজে মন দিচ্ছেন না। হাসপাতালের দুয়ার থেকে সালাহউদ্দিনের ব্যবহৃত সাদা রংয়ের মার্সিডিজ গাড়িতে ওঠার সময় চলতি পথে বাবার অবস্থার দু-একটা কথা জানিয়ে গেলেন শাফিল, খুব মৃদু ভাষায়। কেমন আছেন আপনার বাবা? বেটার, বেটার। আব্বা ঠিক আছেন। ওপেনহার্ট করাতে হবে? হ্যাঁ হ্যাঁ। শুনেছিলাম তিনটা ব্লক ধরা পড়েছে? শাফিল বললেন, ওরকমই। শোনা গিয়েছিল আজই (গতকাল) অস্ত্রোপচার করা হবে? শাফিল বললেন, দুই-তিন দিনের মধ্যেই করা (অস্ত্রোপচার) হবে। উনি (সালাহউদ্দিন) কি কথা বলেন, আপনি কথা বলেছেন? ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, আব্বা ঠিক আছে। চিকিত্সা করাতে বিদেশে নেওয়া যেত না? শাফিল বললেন, ‘না, না এখানেই হবে।’ কথাগুলো বলেই চলে গেলেন সালাহউদ্দিনের ছেলে কাজী শাফিল।
