শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রা নিশ্চিতে নির্বাচনকে কাজে লাগাতে হবে: তাসমিমা হোসেন

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ২১:৩৪

দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা পত্রিকার সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বহমান তা সংহত, স্থায়িত্বশীল ও জনগণের কল্যাণে নিশ্চিত করার জন্য এই নির্বাচনকে কাজে লাগাতে হবে। নির্বাচনে যারা সংসদ সদস্য হন তাদের সমর্থনেই প্রধানমন্ত্রী ও সরকার গঠিত হয়।
 
রোববার (২৪ ডিসেম্বর) পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে একাধিক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দেশ পরিচালনা করেন। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগসহ একাধিক দল সংসদ ও সরকারে ছিল। এ সময় শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সরকার পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে দীর্ঘ ১৫ বছরসহ ৯৬ সালে চারটি সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে তিনটি সরকারে মন্ত্রী ও উপদেষ্টা হিসাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শেখ হাসিনার সহযোগী হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরশাদ সরকারেও সাত বছর মন্ত্রী ছিলেন। পিরোজপুর-২ আসনে দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এর মধ্যে সাত বার তিনি সংসদে গিয়েছেন, পাঁচ বার মন্ত্রী হয়েছেন। ভাণ্ডারিয়া তথা এ এলাকার সন্তান হিসাবে তিনি জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হয়ে স্থানীয় মানুষের কল্যাণে বার বার সুযোগ পেয়ে একটি অনুন্নত-পশ্চাৎপদ অঞ্চলকে মানুষের প্রত্যশা অনুযায়ী গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন দপ্তরে ১৮ বছর মন্ত্রী থেকে জাতি গঠনে যে অবদান রেখেছেন তা অতুলনীয়। তাকে এক সময় আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার বলে অখ্যায়িত করা হতো। তিনি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আবারও এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ভাণ্ডারিয়া-কাউখালীর সঙ্গে নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। তার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, কর্মক্ষমতা, মেধা ইত্যাদি গুণকে নতুন এলাকাসহ ভোটাররা মূল্যায়ন করবেন এমনটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। 

ভাণ্ডারিয়ায় জাতীয় পার্টি-জেপির নির্বাচর্নী প্রচারণার উঠান বৈঠকে নারী ভোটাররা। ছবি: ইত্তেফাক

তাসমিমা হোসেন বলেন, ভাণ্ডারিয়াসহ এই এলাকায় আপনাদের নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু উন্নয়ন করে মানুষের জীবন ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এনেছেন তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ সময় স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি, উন্নয়ন খাতের অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণ কালো টাকার মালিক হয়েছে। এই অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে কেউ কেউ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও হয়েছেন। এই গণবিরোধী ব্যক্তিরা আবার সংসদ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে নির্বাচনে পরাজিত করার জন্য প্রার্থী হয়েছে। তারা যেভাবে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে মিথ্যা মামলা, মাদক ব্যবসা ইত্যাদির মাধ্যমে অবক্ষয়ের দিকে পরিচালিত করে আসছে তাদের এলাকার মানুষ তথা ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করবে। অবৈধ অর্থের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ঘটনা মানুষ প্রত্যক্ষ করছে। এমন কি প্রশাসনের মধ্যেও এই অবৈধ অর্থের প্রভাব সৃষ্টির পায়তারা চলছে। ৯৬ সালে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করাসহ আওয়ামী লীগকে ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তার দল নিয়ে যে সমর্থন দিয়েছিলেন তা শেখ হাসিনা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন। এ কারণে ৯৬ সাল, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে শেখ হাসিনা মন্ত্রী ও উপদেষ্টা করেছিলেন। আগামীতে সরকার গঠনে তাকে পাশে রাখতে চান বলেই এবারের নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে পিরোজপুর-২ আসনে তাকে আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নৌকায় মনোনয়ন দিয়েছেন। এই অঞ্চলের ভোটারদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য পোষণ করে পিরোজপুর-২ আসন থেকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের আপনজনকে পুনরায় সংসদে পাঠিয়ে আগামী দিনে নিজেদের স্বার্থকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

নির্বাচনী উঠান বৈঠকে জাতীয় পার্টি-জেপি নেতা ও ইউপি সদস্য সাখাওয়াত হোসেন সেপাই সভাপতিত্ব করেন। এখানে আরও বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা পার্টি’র সভাপতি আসমা আখতার, নারী নেত্রী লাভলী বেগম, নারী নেত্রী পারভীন আক্তার, ছাত্রসমাজ নেতা মো. কামরুজ্জামান দুলালসহ অনেকে। 

বিকালে ভাণ্ডারিয়া গৌরীপুর ইউনিয়নের রাধানগরে নারীদের আরেকটি উঠান বৈঠকে তাসমিমা হোসেন বক্তব্য দেন। সেখানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহিনুর রুবীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা পার্টি’র সভাপতি আসমা আখতার, নারী নেত্রী রেশমা আক্তার, উপজেলা মহিলা পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা আক্তার, নাসিমা আক্তার, অনামিকা চক্রবর্তী, ঝুমুর কাজী, কাজী রিপনসহ অনেকে। 

ইত্তেফাক/পিও