মানবতার ঠিকানা চায় রাঙ্গাবালীর নিঃসন্তান সুরমা দম্পত্তি

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ২২:২০

পরিত্যাক্ত একটা ভাঙা দোচালা টিনের ঘর। ছেঁড়া পলিথিন, প্লাটিকের বস্তা ও ভাঙা টিনের আদলে ঘরের চারপাশের বেড়া দেওয়া। একটা ছেড়া লুঙ্গি দিয়ে ঘরের দরজা। রান্না ঘর না থাকলেও ঘরের সমনেই রয়েছে মাটির চুলা। দিনমজুর ষাটোর্ধ্ব স্বামীর সামান্য আয়ের উৎস থেকেই জ্বলে এই চুলা। চাল না থাকলে কোনো কোনো দিন চুলায় জ্বলে না আগুনের শিখা। এমনটাই দিনাতিপাত করছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচরের এই নিঃসন্তান বৃদ্ধ ও সহজ সরল অসহায় সুরমা দম্পত্তি।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, ষাটোর্ধ্ব সুরমার স্বামী তালেব একজন দিনমজুর। যখন যেমন তখন তেমন ভাবেই আয়রোজগার করে চলছে দুজনার সুখী সংসার। এই জরাজীর্ণ ঘরে দারিদ্রতাকে মেনেই খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের জীবন সংসার। নিঃসন্তান হলেও এক যুগের সংসার জীবন ছেড়ে যায়নি স্বামী তালেব। শত অভাব অনটনেও এই জরাজীর্ণ ঘরে ভালোবাসায় পরিপূর্ণতা রয়েছে তাদের দুজনার মধ্যে। 

সুরমার প্রতিবেশীরা জানান, যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর তৈরির সামর্থ নাই এমন সব পরিবারকে সরকার নিজ জমিতে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় অসহায় সুরমা দম্পত্তিকে সরকারের এই মহৎ প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাদের নিজ জমিতে একটা ঘর থাকলে নিশ্চই তারা মানবতার ঠিকানায় আশ্রিত হবে। বিভিন্ন সময়ে আমরা যে যতটুকু পারি তাদের সহযোগিতা করে আসছি। তাদের জন্য আমরা একটা সরকারি ঘর বরাদ্দের অনুরোধ করছি। কিংবা সমাজের বিত্তবানদের হাত বাড়ালেও তাদের একটা মানবতার ঠিকানা হতে পারে। 

সুরমা দম্পত্তি প্রতিবেদককে বলেন, বাপের কাইল্লা (সময়) এই জমিটুকু আমাগো আর এই ঘরডাও আমাগো। বৃষ্টির সময় ঘরের মধ্যে ঝর ঝর কইরা পানি পরে। শীতের সময় লাগে শীত। ঘর উডানের (উঠানো) টাহা পয়সা আমাগো নাই। এউক্কা সরকারি ঘর পাইলে হ্যালে আর কষ্টো থাকতে না। যে ঘরডায় থাহি হেও মানষের টাহায় উডাইছি। সরকারি ঘর পামু কই! দেবে কেডা। মেম্বার চেয়ারম্যানের দুয়ারে দুয়ারে বহুত ঘুরছি। মানষের কাম কাইজ কইরা যা জোডে হেই দিয়াই চলি। ইউএনও সাইবে দুই বান্ডিল টিন আর ছয় হাজার টাহা দেছে। এ দিয়া তো ঘর অয়না। আরো টাহা পয়সার দরকার। আমরা একটু সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইলেই ভালো থাকতে পারতাম। আল্লায় আমাগো কোনো গুরাগারা (সন্তান) দেয় নাই। 

তারা আরও জানান, সুরমা একজন প্রতিবন্ধি হয়েও পাচ্ছেন না কোনো সরকারি সহায়তা। অন্যদিকে ষাটোর্ধ তালেবের নেই একটা বয়স্ক ভাতার নাম।    

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সুরমা দম্পত্তির অসহায়ত্তের কথা জানতে পেরে তাদেরকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্যতা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদেরকে সকল সরকারি সহযোগিতার আওতায় আনা হবে। তাদের ঘর নেই তবে নিজস্ব জমি থাকলে ‘খ’ শ্রেণির অর্থাৎ যার জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।  

ইত্তেফাক/পিও