বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

গানে গানে ভোট চাইলেন ডলি সায়ন্তনী

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৬:৫৩

গানে গানে ভোট চাইলেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী।

পাবনা-২ (সুজানগর-আমিনপুর) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করছেন তিনি।

গানে ভক্ত-অনুরাগী ও ভোটারদের অনুরোধে গাইছেন খালি গলায় হ্যান্ড মাইকে আলোচিত গানের অংশবিশেষ। যাচ্ছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। পাড়া মহল্লা, অফিস ও হাটবাজারগুলোও বাদ যাচ্ছে না এই শিল্পীর পদচারণা থেকে। চাইছেন ভোট, দিচ্ছেন পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি।

ভোটের প্রচারণায় বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী। ছবি: ইত্তেফাক

নির্বাচনী এলাকার ১৫ ইউনিয়নের মধ্যে বেশির ভাগ ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগ ও মতবিনিময় করতে দেখা গেছে ডলি সায়ন্তনীকে। গত কয়েকদিন ধরে এই শিল্পী তার সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে আমিনপুর, বেলতলা, রানীনগর, বাঘলপুর, ভাটিকয়া, রুপপুর, বাধেরহাট, দুলাই, চরদুলাই, চিনাখড়া, চর চিনাখড়া, তাতিবন্দ, মানিকহাট, ঢালারচর, সুজানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এর আগে রোববার তিনি সারাদিন আমিনপুর, কাজিরহাট, বাধেরহাটসহ কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ করেন।

ভোটারদের সঙ্গে সৌজন্যতায় বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী। ছবি: ইত্তেফাক

আমিনপুর থানার বাধেরহাটের মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ছোট থেকে আমি ডলির গানের ভক্ত। টিকিট কেটে স্বশরীরে দেখতে পারিনি। আজ সে নিজেই আমাদের কাছে আসছে। সরাসরি গান শোনাচ্ছে। খুব ভালো লাগছে।’

চায়ের দোকানদার রহমত আলী, মুদি দোকানি সালাম, ভুষিমালের ব্যবসায়ী রহমান মিয়া, হোটেল ব্যবসায়ী সোহেল, ভ্যান চালক ওমর ফারুকের ভাষ্য, ‘বেটির দম আছে। নতুম দল হলেও তার জগৎখ্যাতির কারনেই সবাই তাকে চিনছে।’

সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, ‘ভোট দিবা কিনা সেটা পরের বিষয়। তিনি আমাদের মাঝে এসেছেন এটাই আমাদের অনেক প্রাপ্তি।’

জনসংযোগ শেষে ডলি সায়ন্তনী
বাধেরহাটে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শেষে এক পথসভায় ডলি সায়ন্তনী বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান। আমি এলাকায় এসে আবেগ আপ্লুত হয়ে গেছি এলাকার মানুষের ভালোবাসায়। আমি নির্বাচনী মাঠে এসে সার্বিক প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছিলাম। প্রশাসনের যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি। আমি ভয়হীনভাবে আমার শক্তি জনগণকে পেয়েছি প্রতিটা জায়গায়। নির্বাচনে প্রতিপক্ষের কোনো বাধা নেই।’

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এলাকায় আসার পর দেখলাম অনেক কাজ বাকি আছে। যোগ্য জনপ্রতিনিধির অভাবে এলাকা অবহেলিত। আমি নির্বাচিত হলে ঢাকার সাথে সহজ যোগাযোগের জন্য সেতু নির্মাণ, এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সার্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭ জানুয়ারি নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নোঙর মার্কা প্রতীকের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাচনী মাঠ যথেষ্ট ভালো। আপনার দলে দলে কেন্দ্রে যাবেন বাধাহীনভাবে।

রাজনীতিতে নতুন, দলও নতুন এমন সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে ডলি সায়ন্তনী বলেন, ‘নিজের এলাকা। মানুষজন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আমাকে গ্রহণ করায় আমি শঙ্কা, চিন্তা ও ভীতিমুক্ত মনে করছি।’

বিভিন্ন স্থানে ভোটার অনুসারী ও ভক্তরা গান গাইতে বলছেন- এমন ক্ষেত্রে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত জানান, ‘আমি একজন শিল্পী। আমাকে মানুষ চান। ভালোবাসেন। সে প্রমাণ পাচ্ছি। গান শুনতে চাওয়ায় অপ্রস্তুত নই বরং ভালো লাগছে, উৎসাহ লাগছে।’

ইত্তেফাক/এইচএ