এক রাতে ৩ খুন, থমথমে সীতাকুণ্ড

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯:৪৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১৮ মামলার আসামির তোহিদের হাতে সুবেদার (অবঃ) মজিবুল হকের ছেলে নুর মোস্তফা বজলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া আলাদা স্থানে আরও ২ জনের খুনের খবর পাওয়া গেছে। এতে করে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। 

রোববার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ২ নম্বর বারৈয়ঢালা ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম লালা নগরের মৌলভীপাড়ায় মোস্তফাকে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত ১৮টি মামলার আসামি ডাকাত সর্দার তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদ্যা নোয়াপুকুর এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে। 

অভিযুক্ত ১৮ মামলার আসামি ডাকাত সর্দার তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদ্যা। ছবি: ইত্তেফাক

জানা গেছে, আশেপাশের দোকানে থাকা লোকজন বুঝে উঠার আগেই তৌহিদ্যা প্রথমে বজলের বুকে গুলি চালায়। সন্ত্রাসীরা তার বুকের নিচে গুলি করে। এরপর তৌহিদ্যাসহ দুই জনে মিলে বজলের ডান হাতের কবজি কেটে আলাদা করে ফেলে। গ্রামের লোক এগিয়ে আসার আগেই তার সন্ত্রাসী বাহিনী পালিয়ে যায়।

পারিবার জানায়, তৌহিদ্যার অপকর্মের জন্য নিহত নুর মোস্তফা বজল প্রতিবাদ করতো। এ জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করে আসছিল। এলাকার জনগণের সচেতনতার কারণে বেশ কয়েকবার হামলা করার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। তৌহিদ্যার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় ৫টি ডাকাতি, ৪টি মাদক, ১টি হত্যার চেষ্টা ও চুরির মামলাসহ মোট ১৮টি মামলা আছে।

অপরদিকে একই রাতে উপজেলার ১০ নম্বর সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া দবগার দক্ষিণে গরইতল এলাকায় প্রতিদিনের মতো দোকানদারি শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন (৩২)। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার গতিরোধ করে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে লোকজন আলমগীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আলমগীর স্থানীয় মৃত আফাজ উল্লাহর ছেলে।

উপরে নিহত তিন ও নিচে ১৮ মামলার আসামি ও মোস্তফা খুনের অভিযুক্ত তৌহিদ্যা ও গ্রেপ্তার ৩। ছবি: ইত্তেফাক

এ ছাড়া একই রাতে ১১টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল এলাকার ৩ নম্বর সমাজের লোকনাথ মন্দিরের পাশে ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মো. ইমন (১৫) নামে এক কিশোরকে ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ব্যাডমিন্টন সহপাঠি সুজন (১৫), ফারুক (১৬) ও মুন্না (১৭)। পরে স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমন মারা যায়। 

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে সারারাত অভিযান চালিয়ে ইমনের ৩ সহপাঠিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, সমাজ সর্দার মোস্তফা হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত তৌহিদ্যাসহ এবং আলমগীর হত্যাকারী সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। তা ছাড়া ইমনকে হত্যার দায়ে তার ৩ বন্ধুকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়।

ইত্তেফাক/পিও