দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা পত্রিকার সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেছেন, নির্বাচনে এমন ব্যক্তিকে ভোট দিতে হবে যিনি সংসদে গিয়ে দেশ ও এলাকার মানুষের স্বার্থে কাজ করতে সক্ষম হবেন। দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য মেধা-জ্ঞান-প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কযুক্ত নেতৃত্বকেই সংসদে পাঠানো দরকার।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকালে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের নিলতি গ্রামে নৌকা মার্কার সমর্থনে এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তাসমিমা হোসেন বলেন, সরকার পরিচালনার সহযোগী হিসেবে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আনোয়ার হোসেনের মত ব্যক্তিকে এই আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা প্রয়োজন। স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষিত, মেধাবী, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। এ কাজে প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মত ব্যক্তিকে পাশে চান বলেই তাকে শেখ হাসিনা নৌকা মার্কা প্রতীকে প্রার্থী করেছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত কাছের বন্ধু তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে শুধু শেখ হাসিনার সরকারে বারবার মন্ত্রীই হননি পারিবারিকভাবেও আপনজন। ৯৬ সালে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনে সহযোগিতার মত বিভিন্ন সময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন বলেই তাকে নৌকা মার্কায় প্রার্থী করা হয়েছে। মানিক মিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যেভাবে বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার সঙ্গে মানিক মিয়ার উত্তরাধিকার তিন প্রজন্মের এই সম্পর্ক। যা অবিচ্ছেদ্য ও অটুট।
তাসমিমা হোসেন বলেন, আমরা অত্যন্ত পরিতাপ ও আশঙ্কার সঙ্গে লক্ষ্য করছি- পিরোজপুর-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় একটি অশুভ শক্তি কালো টাকা ছড়িয়ে নতুন প্রজন্ম তথা কিশোর-তরুণদের বিপথগামী করে তুলছে। এই জন্য মা-বাবারা অত্যন্ত শঙ্কিত। ইয়াবার মত মাদক গ্রহণে এই দুষ্টচক্র তরুণদের অভ্যস্ত করে তুলছে। নতুন প্রজন্ম পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসনের বাইরে চলে গেলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। এই দুষ্টচক্র দেশের উন্নয়নের লুণ্ঠিত অর্থ নির্বাচনে যেভাবে ব্যবহার করছে তা নির্বাচনী আচরণবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রশাসন ও জনগণকে এই অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। আওয়ামী লীগের মত সংগঠন এই হাইব্রিডদের কবলে পড়ে বিষাক্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচনে এদের পরাজিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি বিগত ৩৩ বছর আগে প্রথমে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নির্বাচন পরে আমার উপ-নির্বাচনে ভান্ডারিয়া-কাউখালী থেকে সংসদ সদস্য হওয়াসহ চারটি নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ৩৮ বছর যাবৎ আনোয়ার হোসেন এ এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এক সময় এ এলাকায় নদী পথে নৌকায় করে চলাচল করতে হত। এই সময়ের মধ্যে অসংখ্য রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মিত হওয়ায় এখন মানুষ সর্বত্র গাড়িতে করে যাতায়াত করছে। শিকারপুর, দোয়ারিকা সেতু, গাবখান সেতু, বলেশ্বর সেতু, বাগেরহাটের দরাটানা সেতুর মত বড়বড় সেতু আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর যোগাযোগ মন্ত্রীত্বের অবদান। ৯৬ সালের সরকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজকের পদ্মাসেতুর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন ও পরিকল্পনা গ্রহণে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও উন্নয়ন তার হাতেই সম্প্রসারিত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলসহ সারা বাংলাদেশে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সৃষ্টিতে তার অবদানকে মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। আগামীতেও এই উন্নয়ন ধারা, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা তথা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনকে অব্যাহত রাখতে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে সংসদ ও সরকারে পাঠাতে হবে।
কাউখালী উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি নেতা খান মোহাম্মদ বাচ্চুর সভাপতিত্বে এই উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, কাউখালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. নূরুল আমিন, সহসভাপতি বজলুর রহমান খান নান্নু, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান জুয়েল, সমাজকর্মী আব্দুল লতিফ খসরু, জেপি নেতা রাজু আহমেদ ও উপজেলা যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল ইসলাম কাইয়ুম।
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেপি নেতা জাকির হোসেন নসু, জেপি নেতা হারুন অর রশীদ, শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সোহাগ খান, যুব সংহতির সভাপতি নূরুজ্জামান মনু, মহিলা পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ আফরোজা বেগম, সাধারণ সম্পাদক সীমা আকতার, ছাত্র সমাজের সভাপতি শামিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জয়দেব সমাদ্দার প্রমুখ।
তাসমিমা হোসেনের সফরসঙ্গী ছিলেন ভান্ডারিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা পার্টি সভাপতি আসমা আখতার, সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা আক্তার, নারী নেত্রী প্রভাষক রেশমা আক্তার, নারী নেত্রী অনামিকা চক্রবর্তী, শিরিণ খান, নাসিমা আক্তার, ঝুমুর কাজী প্রমুখ।
