ডাক্তাররা সালাহউদ্দিনকে চাঙ্গা রেখেছেন

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৩:৩০

হাসপাতালের বিছানায় অন্যরকম এক জীবন দেখছেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। টানা ১০ দিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন। সারাক্ষণ ডাক্তার, নার্স আসছেন, খোঁজখবর নিচ্ছেন। গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে হূদেরাগের চিকিত্সা করাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দেশের একসময়ের তারকা স্ট্রাইকার কাজী সালাহউদ্দিন।

অস্ত্রপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। হাসপাতালের চার-পাঁচজন ডাক্তার তার চিকিত্সা করছেন। সালাহউদ্দিনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ ভালো আছেন এখন। আগের চেয়ে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাও অনেক ভালো। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে সালাহউদ্দিনের মনে যতটা দুশ্চিন্তা ছিল, এখন নাকি তা অনেকটাই কমে গেছে। ডাক্তাররা ভীষণ রকম আদরযত্ন করছেন।

চিকিত্সাক্ষেত্রে চিকিত্সকদের অনেক কিছুই একজন রোগীকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে দেয়। সালাহউদ্দিনকেও বেশ চাঙ্গা রাখছেন ডাক্তাররা। ওপেন হার্ট করানোর আগ পর্যন্ত মানিসকভাবে প্রস্তুত রাখতে যা কিছু করা দরকার, তা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভয় না পাওয়ার জন্য সব সময় ডাক্তাররা পাশে থাকছেন, কথা বলছেন।

সালাহউদ্দিন ছুটে চলা মানুষ। ঘরে বিশ্রাম করার মানসিকতা নেই। সেই মানুষটি জীবনে এত দিন বিশ্রাম করেননি। ডাক্তাররা জানিয়ে দিয়েছেন, বাইরের কোনো আলোচনা করা যাবে না। প্রাত্যহিক জীবনের বাইরে এখন নতুন জীবন শুরু করেছেন সালাহউদ্দিন। সময়মতো খেতে হবে, ঘুমাতে হবে। তার কোনো কথা কেউ শুনছেন না।

ডাক্তাররা যেভাবে যত্ন-আত্তির কথা বলেছেন, সেভাবেই মেনে চলতে হচ্ছে সালাহউদ্দিনকে। মানতে বাধ্য হয়েছেন বাফুফের সভাপতি। শরীরের যত্ন নেননি কখনো, সেটা এখন অনুভব করছেন তিনি। ২০০৮ সালে বাফুফের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সালাহউদ্দিন। তার পর থেকেই মূলত দৈনন্দিন জীবনে পারিবারিক শৃঙ্খলার ছন্দপতন। সর্বক্ষণ ফেডারেশনের কাজকর্মের মধ্যে ডুবে থেকে খাওয়ার কথাও ভুলে যেতেন—এই সবকিছু জেনে নিয়েছেন ডাক্তাররা। যে কারণে চিকিত্সকদের পক্ষ থেকে তাকে বাড়িত যত্ন করতে হচ্ছে। 

সালাহউদ্দিনকে ঘিরে রয়েছে তার পরিবার। স্ত্রী ইমা, মেয়ে কাজী সারাজিন, ছেলে কাজী শাফিল, ভাই কাজী শাকিল জয়, বোন সম্পা রয়েছেন। যাওয়া-আসা করছেন বাফুফের সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরন। পুরো পরিবারকে একসঙ্গে দেখছেন সালাহউদ্দিন। পরিবারের সবার কথা শুনতে হচ্ছে, নিয়মের মধ্যে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ‘বাবা এখন বেশি কথা বোলো না। আগে সুস্থ হও, পরে সব চিন্তা করা যাবে’—বাবার প্রতি সন্তানের অনুরোধ।

সালাহউদ্দিনের পরিবারের বাইরে আর কাউকে আসতে দিচ্ছেন না ডাক্তাররা। পরিবারকে কাছে থাকার সুযোগ দিয়েছেন। সিগারেট পুরোপুরি বন্ধ। বুকে জমে থাকা কাশি কমে আসছে। শরীরের অন্যান্য সমস্যার সঙ্গে কাশিটা নিয়ন্ত্রণে এলেই ওপেন হার্টের ব্যবস্থা করা হবে। ১০ বছর আগে একবার এনজিওগ্রাম করানো হয়েছিল। সৌভাগ্যক্রমে সেবার অটোবাইপাস হয়ে গিয়েছিল। সবার কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।

 

ইত্তেফাক/এএম