ফরিদপুরে নৌকা সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৩:৫৬

ফরিদপুর ৩ আসনের (সদর) ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নে নৌকা সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ এসেছে। এতে ছয়জন নৌকা সমর্থক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরতর আহত হয়েছেন দুজন। তাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফরিদপুর সদর আসনের নৌকা প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শামীম হক বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে তার সমর্থকদের ওপর হামলা করে আসছে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের কর্মীরা। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রাত নয়টার দিকে ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এতে ছয়-সাতজন আহত হয়েছে। দুজনের অবস্থা গুরুতর।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ সাহেব তো নির্বাচন করতে আসেননি। বিএনপির এজেন্ডা নির্বাচন বানচাল করতে আসছেন। সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।’

নৌকার একজন কর্মী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের কর্মীরা পোস্টার লাগাচ্ছিল ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে। রাত নয়টার দিকে একটি মাইক্রোবাস ও একাধিক মোটরসাইকেলযোগে কিছু লোক আসে। এ সময় আমাদের কর্মীরা নৌকার পোস্টার লাগাচ্ছিল। ওই মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল থেকে লোকজন নেমে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের মারধর করে। এ সময় দৌড়ে অনেকে পালিয়ে যায়, ছয়জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কামরুল মোল্যা ও সেলিম শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের প্রথমে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা অহিমুল ইসলাম ফাহিম বলেন, ‘দুজন রোগী এসেছিল, তাদের অবস্থা গুরতর। একজনের মাথায় আঘাত রয়েছে, অন্যজনের শরীরে একাধিক স্থানে আঘাত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের নির্বাচনী সমন্বয়কারী মো. শোয়েবুল ইসলাম বলেন, ‘এটা পুরোপুরি একটা সাজানো নাটক। কয়েকদিন ধরে ওই ইউনিয়নে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগও দেওয়া আছে। সেসব ঘটনা আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলার নাটক সাজিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে নৌকার এই প্রার্থী।’

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি (অপারেশন) মো. আবদুল গাফফার বলেন, ‘খবর পাওয়ামাত্রই হাসপাতালে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ইত্তেফাক/এইচএ