বড়দিনের ছুটি ছিল আবাহনী টেন্টে, অনুশীলন ছিল না। ক্রিসমাসের দিনটা উদ্যাপনের জন্য ঢাকাস্থ আর্জেন্টিনা দূতাবাসের আমন্ত্রণে আবাহনীর আর্জেন্টাইন কোচ আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানী সেখানে গিয়েছিলেন। কারণ বাংলাদেশে আজেন্টইন খুব কম। অন্যতম কাছের মানুষ বলতে আর্জেন্টিনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
ক্রিসমাস ভালোই কাটিয়েছেন তিনি। কিন্তু মনের কষ্টটা দূর হয়নি। আবাহনী নিয়ে টেনশনে রয়েছেন ক্রুসিয়ানি। লিগের প্রথম ম্যাচেই আবাহনী ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে। রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হয়। ২১ মিনিটে গোল করে ৬৭ মিনিটে গোল হজম করেছে আবাহনী। স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে দুর্দান্ত খেলেও দ্বিতীয়ার্ধে টপাটপ ৪ গোল হজম করেছিল আবাহনী।
এসব কারণে ক্রুসিয়ানির মনটা একেবারেই ভালো নেই। সেই ৪ গোলের ম্যাচটা নিয়ে ধাক্কা না সামাল দিতে লিগের ম্যাচ ড্র। দুই পয়েন্ট কম নিয়ে লিগ শুরু করল। কারণ মোহামেডান জয় পেয়েছে। বসুন্ধরা কিংস জয় নিয়ে শুরু করেছে। সেখানে আবাহনী যেন পিছিয়ে থাকল। এ সময় সংবাদ মাধ্যম দেখলে পাত্তা দিচ্ছেন না। এমনিতেই ক্রুসিয়ান প্রচার বিমুখ। কখনোই নিজের প্রচার খোঁজেন না।
প্রথম বার ঢাকায় এসে যখন বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ ছিলেন তখন যেসব সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তারাই এক-আধটু কথা বলতে পারছেন না। সেদিন রহমতঞ্জের বিপক্ষে ড্র হওয়ার পর এখন তো আরো পাত্তা দিচ্ছেন না। কাছে যেতেই ক্রুসিয়ানি প্রশ্ন করলেন, ‘কী কথা বলব আমি। কিছু কি বলার আছে। রেজাল্ট দেখ। আবাহনীর সমর্থকরা রেজাল্ট চায়। কথা শুনতে চায় না। ফুটবলে রেজাল্ট না হলে কেউ কথা শুনবে না।’
সাবেক ফুটবল কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক আবাহনী-রহমতগঞ্জ ম্যাচ নিয়ে ভিন্ন মন্তব্য করলেন। মানিক বললেন, ‘রহমতগঞ্জ এমন একটা দল তাদের বিপক্ষে বাজে রেজাল্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। রহমতগঞ্জের বিপক্ষে বড় যে কোনো দল, হোক সেটা মোহামেডান কিংবা আবাহনী, স্নায়ুর চাপ থাকে। রহমতগঞ্জে কে খেলছেন, আর কে খেলছেন না, সেটা বড় কথা না। রহমতগঞ্জের বিপক্ষে খেলা হলে স্নায়ুর চাপ থাকে।’
গতকাল দুপুরে আবাহনী ক্লাবে ঢুকেই মিটিং করেছেন কোচ ক্রুসিয়ানি। এরপর খেলোয়াড়রা যখন মাঠে অনুশীলনে চলে গেলেন তার মিনিট দশেক পর ক্রুসিয়ানি মাঠে ঢোকেন। অফিস রুম হতে বেরিয়ে একা যাচ্ছিলেন ফেন্সিং দিয়ে ঘেরা অনুশীলন মাঠে। চলতে চলতে কথা হলো। শরীরী ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন কথা বলতে রাজি না। তারপরও প্রশ্নের জবাবে সুন্দর চেহারার মুখচ্ছবিতে ফুটিয়ে তুললেন মন ভালো না থাকার ছবিটা।
ক্রুসিয়ানি বললেন, ‘কথা বলে কী হবে। একই কথা। তুমি যখন ম্যাচ জিতবে তখন অনেক কথা চলে আসবে। ম্যাচ না জিতলে করুণ কাহিনি শোনার আগ্রহ থাকবে কেন বলো? কিংসের বিপক্ষে ভালো খেলে গোল পেলাম না। ৪ গোলে হারার মতো দল এটা না। বসুন্ধরা কিংস বড় দল মানি। কিন্তু আমরা যে খেলাটা খেলেছিলাম সেটা তো সবার মেন থাকার কথা। কিন্তু স্কোর না পেলে সেই ভালো খেলার কোনো দাম নেই।’ দ্রুতগতিতে ছুটলেন ক্রুসিয়ানি। তারই পাশে থাকা একজন হোঁচট খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল, সেদিকে ফিরে তাকানোরও সময় পেলেন না অনুশীলন মাঠে ধাবমান কোচ।
শনিবার রাজশাহীতে লিগের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ফর্টিসের বিপক্ষে। জিতলে স্বস্তি নিয়ে ফিরবেন কোচ।
