টেবিল ভরা খাবার, গরুর মাংস, মুরগির মাংস খুব পছন্দ, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসে খাওয়া যার নিত্যদিনের অভ্যাস। সেই মানুষটির সামনে এখন শিং মাছের ঝোল। ছোট্ট একটুকরা মাছ। এভারকেয়ার হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের ডায়েটট্রিশিয়ান যেভাবে খাবার তালিকা করে দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই খাবার খেতে হবে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনকে। মসলামুক্ত খাবার, রোগীর একরকম পথ্য। খাওয়ার অভ্যাস নেই সালাহউদ্দিনের। এখন এভাবেই খেতে হচ্ছে। বাসা থেকে খাবার আনা বন্ধ।
নিয়মে হাসপাতালের খাবার খেয়ে ১১ দিন কাটিয়ে দিলেন সালাহউদ্দিন। আগামীকাল তার অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হবে কাজী সালাহউদ্দিনকে।
১১টা দিন একটা ঘরের মধ্যে রয়েছেন তিনি। ফুটবল খেলে একবার জেলে যেতে হয়েছিল সালাহউদ্দিনকে। ১৭ দিন জেলে ছিলেন। তখনো বোধকরি এতো দুশ্চিন্তা করেননি তিনি। এখনো দুশ্চিন্তা নেই। সাহস আছে মনে। কম বয়সে ঘর ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কম বয়সে দেশের সব সিনিয়র ফুটবলারদের সঙ্গে খেলেছেন। সাহসের এতটুকু কমতি নেই। তার পরও একজন মানুষ অসুস্থ হলে অনেক নিয়মের মধ্যে চলতে হয়। আর তাতে মেজাজ খারাপ হলেও কিছু করার থাকে না। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের স্যুপ খেতেই হয়, চা কফি সম্পূর্ণ বন্ধ। শুধু গ্রীন টি দেওয়া হচ্ছে। সালাহউদ্দিনকেও সব মেনে নিতে হচ্ছে। স্ত্রী ইমা সালাহউদ্দিনও স্বামীকে অনুরোধের স্বরে বলছেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি হলে নিময়-কানুনের মধ্যে থাকতে হয়।’
নারী ফুটবলের খবর নিয়েছেন, ছেলেদের ফুটবলের খবর নিয়েছেন। লিগ শুরু হয়ে গেছে। ফেডারেশন কাপ শুরু হয়েছে এসব খবর জেনেছেন। হাসপাতালের কক্ষে চার দেওয়ালের মধ্যেই এখন সালাহউদ্দিনের জীবন। পৃথক ড্রইং রুম এবং বেড রুম। প্রশস্ত ফ্লোর। তবুও ভালো লাগছে না। বিশ্রামে থাকতে বলা হলেও বিছানায় থাকার মানুষ না তিনি। কখনো পায়চারি করছেন, আর যেসব টিভি চ্যানেলে ফুটবল খেলা হচ্ছে, মন দিয়ে দেখছেন। টিভি রিমোট তার দখলে।
ভর্তি হওয়া রোগীকে হাসপাতালের পোশাক পরিধান করতে হয়। হাসপাতালের নির্ধারিত পোশাক পরতে আগ্রহ ছিল না। বাসা থেকে আনা পোশাকে থাকার আগ্রহ ছিল। কিন্তু হাসপাতালের একটা নিয়ম আছে। হাসপাতাল থেকে দেওয়া ওপরের গাউন গায়ে দিলেও নিচের অংশে থ্রি কোয়ার্টার হাফপ্যান্টেই স্বস্তি পাচ্ছেন দেশের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার। ডাক্তার আসছেন দেখছেন। বেশ সময়ও দিচ্ছেন।
সামনে থাকছেন স্ত্রী ইমা সালাহউদ্দিন। রাতেও তিনি হাসপাতালে থাকেন। দিনের বেলায় ছেলেমেয়েরা আসছে, ভাইবোন পালাক্রমে দেখে আসছেন। পরিবারের মানুষগুলোকে এক সঙ্গে পেয়ে গল্পে-গল্পে হূদেরাগী সালাহউদ্দিনও নিজের অসুস্থতার কথা মাঝেমধ্যে ভুলে যান। গতকালও সবাই তার পাশে ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা আগামীকাল অস্ত্রোপচারের দিনক্ষণ জেনে বাসায় ফিরেছেন।
