সুগার লেভেল, ব্লাডপ্রেসার, কাশি, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজী সালাহউদ্দিনের ডাক্তাররা অপেক্ষায় ছিলেন। এজন্য নিয়মিত চেকআপ করাতে হয়েছে। কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়েছে। খাওয়া-দাওয়া ঘুম, ওষুধ, সবকিছুতে নিয়ম আর নিয়ম মানতে গিয়ে মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে উঠতেন সালাহউদ্দিন। তার জীবনে এমন শৃঙ্খলা খুব কমই ছিল। ডাক্তাররা সালাহউদ্দিনের রুমে রাউন্ডে এলেই তার কৌতূহলী দৃষ্টি, কবে অস্ত্রোপচার করা হবে। কৌতূহলী প্রশ্ন করার আগেই ডাক্তাররা রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব রিপোর্টের ফাইলপত্র দেখে জানিয়ে দিয়েছেন আপনার (সালাহউদ্দিন) শরীর ঠিকঠাক আছে। আপনারর শরীর অস্ত্রোপচারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আজ সকালে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হবে।
হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্টদের সঙ্গে কাজী সালাহউদ্দিনের অন্যরকম এক সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে। দেশের সাবেক তারকা স্ট্রাইকারকে রোগী হিসেবে কাছে পেয়ে তারাও রোমাঞ্চিত, রোগীকে দেখতে গিয়ে ফুটবল রোমাঞ্চকর স্মৃতির কথা উঁকি দিয়েছে। পারিবারিক সূত্রের খবর, ডাক্তাররা প্রতি সাক্ষাতে অনেক বেশি সময় দিয়েছেন। যতটা আশা করেননি, তারচেয়েও বেশি-ই পেয়েছেন সালাহউদ্দিন। সালাহউদ্দিনকে বুঝতেই দেননি তিনি হৃদযন্ত্রের অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। আজকে অস্ত্রোপচারটা নিখুঁত ভাবে শেষ হলেই যেন সবাই খুশি।
গত ১৬ ডিসম্বের বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যান সালাহউদ্দিন। পরে এনজিওগ্রাম করানো হলে সালাহউদ্দিনের হার্টে ব্লক পাওয়া যায়। বাইপাস করাতে হবে। জটিল অবস্থায় ছিলেন তিনি। বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানো যেত। হয়তো যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। পরিবার থেকে ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ডাক্তাররা অভয় দিয়েছেন।
এভাবে টানা অনেক দিন ধরে সালাহউদ্দিনকে কখনো হাসপাতালের জীবন ভোগ করতে হয়নি। এবার তার অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা হলো। মনে মনে সালাহউদ্দিনও চাইছেন অস্ত্রোপচারটা হয়ে যাক। অপেক্ষার অবসান হোক। খুব কম সময়ের মধ্যে বাসায় ফেরা যাবে। স্ত্রী ইমা সালাহউদ্দিন, কন্যা কাজী সারাজিন, পুত্র কাজী শাফিল, সালাহউদ্দিনের ছোট ভাই কাজী শাকিল জয়, বোন শম্পা আস্থা রাখছেন, বিশ্বাস রাখছেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছেন। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। বাফুফে দোয়া মাহফিল করিয়েছে। বাফুফের সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ সালাহউদ্দিনের জন্য দোয়া চেয়েছেন, কুরআন খতম দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
