স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে সংসদে পাঠাতে হবে: তাসমিমা হোসেন

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ২২:২০

দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা পত্রিকার সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেছেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। পিরোজপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে নৌকা প্রতীকে জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শেখ হাসিনার মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি যেমন শেখ হাসিনার একজন আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা, তেমনি এলাকাবাসীর কাছে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত জনপ্রতিনিধি।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের সিংহখালী ও ভান্ডারিয়া পৌর এলাকার গাজীপুর গ্রামে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নৌকা মার্কার পক্ষে দু’টি পৃথক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তাসমিমা হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার যে রূপকল্প ঘোষণা করেছেন তা কার্যকর করতে বিগত ১৫ বছর ধরে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপদান, পদ্মাসেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পসহ অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করে চলছেন। যা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্নের রূপদান বলে ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। তিনি বাঙালি জাতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে। 

তিনি বলেন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ঐতিহাসিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একইসূত্রে বাঁধা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে একে অপরের পরিপূরক ও সুখ-দুঃখের সঙ্গী। রাজপথে বঙ্গবন্ধু বাঙালিদের নেতৃত্ব দিয়েছেন, মানিক মিয়া ইত্তেফাক পত্রিকার লেখনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর  রাজনৈতিক সংগ্রামকে প্রেরণা যুগিয়েছেন। এ কারণে এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের পরিবারের মধ্যেও গড়ে উঠেছে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। যার প্রতিফলন ছিলো ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে। 

তাসমিমা হোসেন আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় এসেছে সেখানে সংসদ সদস্য হিসাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন। যার প্রতিদানে তাকে ৯৬ সালে যোগাযোগ মন্ত্রী, ২০১৩ এর শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং ২০১৪ সালে আবারও মন্ত্রিসভার সদস্য করেন শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালে ১৪ দলের প্রার্থী হিসাবে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তারই অভিপ্রায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর-২ আসন থেকে সংসদ  সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক দিয়ে নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করেছেন। দীর্ঘ ৩৮ বছরে সাতবার সংসদে এসে এবং পাঁচবার মন্ত্রিত্ব লাভের সুযোগে আনোয়ার হোসেন এই অঞ্চল তথা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙ্গন রোধ, বনায়ন ইত্যাদি কাজে তার (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) অবদান অনস্বীকার্য। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করে পশ্চাৎপদ দক্ষিণাঞ্চলবাসীকে তিনি একধরনের বন্দিদশা থেকে মুক্তজীবনে নিয়ে এসেছেন। মানুষকে দিয়েছেন আলোর সন্ধান। শিক্ষা বিস্তারে রেখেছেন যুগান্তকারী ভূমিকা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভিজ্ঞ, পরীক্ষিত, উন্নয়নের কাণ্ডারি, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কর্ণধার, আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আবারও পিরোজপুর-২ আসানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য তাসমিমা হোসেন ভোটারদের কাছে আহ্বান জানান। 

শুক্রবার বিকালে ভান্ডারিয়া পৌর এলাকার গাজীপুর গ্রামে পঞ্চায়েত বাড়ীতে অনুষ্ঠিত নৌকা মার্কার নির্বাচনী উঠান বৈঠকে সমাজকর্মী আব্দুল খালেক হাওলাদারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক মো. নূরুল হক, উপজেলা জেপি নেতা জামাল উদ্দীন লিটন, যুব সংহতির নেতা জুনায়েদ খন্দকার, ছাত্র সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হাওলাদার প্রমুখ।

রাতে তাসমিমা হোসেন ভান্ডারিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম সিংহখালীতে আরেকটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। জালাল উদ্দীন গাজীর সভাপতিত্বে এখানে আরও বক্তব্য রাখেন ভান্ডারিয়ার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা খান মো. এনায়েত করিম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মাহিলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আসমা আখতার, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাকির হোসেন, উপজেলা জেপি’র সহসভাপতি কাওসার উদ্দিন মালকার, সাবেক ছাত্রনেতা কাজী ওয়াহিদুজ্জামান বাচ্চু, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আবুল বাশার বাদশা, আওয়ামী লীগ নেতা মাইদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান আবু, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী কেশব লাল রায়, প্রাক্তন সৈনিক আব্দুর রব প্রমুখ।

উঠান বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কাস পার্টির উপজেলা সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদার, আওয়ামী লীগ নেতা খোকন সিকদার, যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির দুলাল, পৌর কৃষকলীগের সভাপতি রুহুল আমীন হাওলাদার, যুবলীগ নেতা মো. শহীদুল ইসলাম, যুব মৈত্রীর উপজেলা আহ্বায়ক মিলন হাওলাদার, যুব মৈত্রীর পৌর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক প্রমুখ। 

ইত্তেফাক/এবি